kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

বৃটেনে এরই মধ্যে আক্রান্ত ৬৬ লাখ মানুষ, বলছে সিম্পটম ট্র্যাকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৬:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৃটেনে এরই মধ্যে আক্রান্ত ৬৬ লাখ মানুষ, বলছে সিম্পটম ট্র্যাকার

করোনায় কাঁপছে বিশ্ব। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার থাবা থেকে রক্ষা পায়নি যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলো। যুক্তরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। আর করোনার রোগী চিহ্নিত করার জন্য ‘কভিড সিম্পটম ট্র্যাকার’ নামের একটি অ্যাপ এনেছে লন্ডনের কিংস কলেজের বিজ্ঞানীরা। আর সেই অ্যাপই বলছে বৃটেনে করোনায় আক্রান্ত দেশটির ছয় দশমিক ছয় মিলিয়ন মানুষ। অর্থাৎ প্রায় ৬৬ লাখ।

গত সপ্তাহেই এই অ্যাপটিকে বাজারে ছাড়া হয়। অনলাইনে এই অ্যাপটি ছাড়ার পর ২৪ ঘণ্টায় ডাউনলোড করা হয়েছে ৬৫ লক্ষবার। আর সেই থেকে এই অ্যাপটি যারা ব্যবহার করছেন তাদের মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষেরই করোনার লক্ষণ রয়েছে। তাদের মধ্যে জ্বর, কাশি ও ক্লান্তি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে না থাকলে কাউকে এই ভাইরাসের পরীক্ষা করছে না। তাই বলা যায় কতো মানুষ অসুস্থ তার স্পষ্ট চিত্রগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে এই অ্যাপের তথ্য।

অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী যদি প্রতি ১০ জনে একজন করোনায় আক্রান্ত হন; আর সেই বিষয়টি যদি যুক্তরাজ্যের ৬৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় তাহলে দেশটির ছয় দশমিক ছয় মিলিয়ন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই মারণ ভাইরাসটিকে রুখতে টেস্টের বা রোগী চিহ্নিত করার ওপর জোর দিতে হবে। করোনা মোকাবেলায় করোনার পরীক্ষা করার জরুরি। করোনা নিয়ন্ত্রণে টেস্ট করে আক্রান্তের খোঁজ জানা অতি জরুরি। কারণ এই রোগটি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সহজে ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন টেস্টিং সিস্টেমের জন্য প্রশংসিত হয়েছে। 

করোনা টেস্টিং কিটের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে যুক্তরাজ্যেও। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও তার বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতারা জানিয়েছেন, সঠিকভাবে করোনা টেস্ট করার জন্য কঠোর হচ্ছেন তারা। অ্যাপ ডেভেলপার প্রফেসর টিম স্পেক্টর টিলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, প্রথম বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। দেখা গেছে প্রতি ১০ জনে একজন ব্যবহারকারীর করোনা লক্ষণ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, যারা এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন তাদের মধ্যে ৬৫ হাজার মানুষের শরীরেই করোনা রয়েছে। তারা করোনায় আক্রান্ত।

যুক্তরাজ্যের সরকারি তথ্য মতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার পাঁচশ ২৯ জন। আর মৃতের সংখ্যা চারশ ৬৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালের রোগীদের ও যারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদের জন্য টেস্টিং কিটগুলো রেশন দেওয়া হচ্ছে। তাই বলা হচ্ছে, করোনার সংক্রমণের প্রকৃত তথ্য জানা অসম্ভব। প্রফেসর টিম স্পেক্টর বলেন, করোনায় আক্রান্তের সঠিক সংখ্যাটি জানার কোনো উপায় নেই। আর এই অ্যাপটি ছাড়া কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। তিনি দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা সরকারকে এদিকে নজর দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তার মতে, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের পরিকল্পনায় ভালো সহযোগিতা করতে পারবে এই অ্যাপটি।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে ২১ হাজার একশ ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে গতকাল বুধবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন পর্যন্ত ভয়াবহ দিন। সে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ৪৮ জনে ঠেকেছে। তবে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির দাবি, নতুন করে ১৬৪ জনের প্রাণহানির পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে নয়শ ৪৪ জন। তবে তিনশ ৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্পেনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার চারশ ৩৪ জন।

ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার আটশ ২০ জনে ঠেকেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে মারা গেছে ১৩৩১ জন। সার্বিয়াতে দুই শিশু আক্রান্ত হয়েছে। স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। স্পেনে এখন পর্যন্ত ৪৭ হাজার ছয়শ ১০ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা গেছে, চীন এবং ইতালির পরেই যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

সূত্র : ডেইলি মেইল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা