kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ভয়াবহ সরঞ্জাম সঙ্কটে অস্ট্রেলিয়া, ডাক্তাররা নিজেরাই সেলাই করছেন নিজেদের পিপিই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৪:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভয়াবহ সরঞ্জাম সঙ্কটে অস্ট্রেলিয়া, ডাক্তাররা নিজেরাই সেলাই করছেন নিজেদের পিপিই

নিজেদের তৈরি গাউন পরে আছেন ডাক্তাররা

অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার সাতশ ৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১২৩ জন। জানা গেছে, মোট ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং গুরুতর অবস্থায় রয়েছে ১১ জন।

করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করছেন চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে দেশটিতে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে এবং নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিজেরাই পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট) সেলাই করছেন ডাক্তাররা।

তাদের সেবার মানসিকতা যথেষ্ট প্রশংসিত হচ্ছে। তবে এটিই যথেষ্ট নয়। কারণ, আরো চার সপ্তাহ আগে সে দেশের চিকিৎসকরা পিপিই'র চাহিদার কথা জানিয়েছিলেন। তবে, সরকারিভাবে প্রয়োজনানুসারে পিপিই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

চার সপ্তাহ আগের চাহিদার ভিত্তিতে মাত্র একশ সুরক্ষা স্যুট দেওয়া হয়েছে ক্যানবেরা হাসপাতালে। সেটি শেষ হয়ে গেছে আরো দুই সপ্তাহ আগে। অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও সঙ্কট চরমে।

সুরক্ষা স্যুটগুলো ধুয়ে বারবার ব্যবহার করছেন ডাক্তাররা। বাধ্য হয়ে নিজেদের থেকেই সেগুলো সেলাই করে ব্যবহার করছেন। রাজধানী ছাড়াও ভিক্টোরিয়া এবং কুইন্সল্যান্ডে সঙ্কট প্রকট। সবগুলো হাসপাতাল থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে পিপিই'র জন্য আবেদন করা হচ্ছে।

অলাভজনক সংস্থা মারি পিএইচএন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাট জোনাস বলেন, তারা কেবল এন৯৫ এবং সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহ করতে পেরেছেন।

বেনডিগোর সাংসদ লিসা চেস্টার বলেন, সরকারের উচিত আরো গুরুত্ব দিয়ে সঙ্কট নিরসন করা। প্রয়োজনানুসারে পিপিই সরবরাহ করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন পিপিই আসছে। কিন্তু সেটা এখন দরকার। ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে সরকারের কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি বিষয়।

সে দেশের প্রখ্যাত ডাক্তার নিকোলে টনসেন্ড বলেন, রোগী দেখার জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই'র অবস্থা একেবারে নাজুক। চার সপ্তাহ আগে আমরা একশ গাউন এবং মাস্কের অর্ডার দিয়েছিলাম। সেগুলো দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, এরপর খাবারের টেবিলে বসে তিনি এবং তার সহকর্মীরা পিপিই সেলাই করার ব্যাপারে কথা বলেন। 

নিকোলে বলেন, আমাদের কাছে নকশা ছিল (কিভাবে পিপিই তৈরি করতে হয়, সেই ধারণা)। তারপর আমরা হাসপাতালের ঘরকে সেলাই ঘর বানিয়ে ফেললাম। চলতি সপ্তাহে নিজেদের তৈরি গাউন পরেই চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পিপিই সঙ্কটের পাশাপাশি অক্সিজেন দিতেও হিশশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের অনেককেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

সূত্র : বেন্ডিগোঅ্যাডভার্টিজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা