kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সিরিয়ার সঙ্গে কি তুরস্ক সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিরিয়ার সঙ্গে কি তুরস্ক সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে?

উত্তর পশ্চিম সিরিয়ায় এক বিমান হামলায় ৩৩ জন তুর্কি সৈন্য নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান আংকারায় এক উচ্চপর্যায়ে নিরাপত্তা বৈঠক করেন এবং তুরস্কের বাহিনী সিরিয়ার ২০০টি লক্ষ্যবস্তুর ওপর স্থল ও বিমান হামলা শুরু করে। এতে ৩০৯ জন সিরিয়ান সৈন্যকে 'নির্মূল' করা হয়েছে এবং ৫টি হেলিকপ্টার, ২৩টি ট্যাংক, ২৩টি হাওইটজার এবং দুটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে বলে তুরস্ক দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ইদলিব প্রদেশ পুনর্দখলের জন্য রাশিয়ার সামরিক সমর্থন নিয়ে ব্যাপক যুদ্ধ চালাচ্ছে। ইদলিব হচ্ছে সিরিয়ার ভেতরে বাশার আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের সবশেষ ঘাঁটি। এখানে একাধিক তুরস্ক-সমর্থিত সিরিয়ান বিদ্রোহী, জিহাদি ও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আছে। যে কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার নিচ্ছে তা হলো, তুরস্ক হচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

অন্যদিকে সিরিয়ার বাশার আসাদ সরকারের মিত্র হচ্ছে অপর পরাশক্তি রাশিয়া। তাই তুরস্ক আক্রান্ত হলে ইদলিবের যুদ্ধে পরাশক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ে কিনা-সেই আশংকা বেড়ে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল বলেছেন, সিরিয়ায় একটি বড় আকারের আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস বলছেন, তুরস্ক এবং সিরিয়ার মধ্যে এখন পূর্ণ-মাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনি বলছেন, প্রশ্ন হলো আংকারা বা দামেস্ক এ ক্ষেত্রে পিছু হটবে কিনা। মস্কোকে যদিও এখানে কোনো নিরপেক্ষ দেশ বলা যায় না-কিন্তু তারা উত্তেজনা হ্রাসে কোনো ভূমিকা রাখবে কি? তারা কি বাশার আসাদ সরকারের ইদলিব পুনর্দখলের অভিযান বন্ধ করতে পারবে?

এ নিয়ে সংশয় আছে কারণ, বাশার আসাদ চাইছেন তিনি সিরিয়ার পুরো ভূখণ্ডের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ পুনপ্রতিষ্ঠা করবেন এবং এ কাজে রাশিয়া তাকে বরাবর সাহায্য করে চলেছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে যে ক্রুজ মিসাইল সজ্জিত দুটি রাশিয়ান ফ্রিগেট এখন বসফরাস প্রণালী পার হয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাচ্ছে। যদিও মস্কো বলছে, এর সাথে সিরিয়ার ঘটনাবলীর কোন সম্পর্ক নেই। নেটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাশিয়া ও বাশার আসাদের বাহিনীর অভিযান থামাতে বলেছেন। নেটো জোটের পক্ষ থেকে ইদলিবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একজন মুখপাত্র বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বলা হয়েছে সিরিয়ার সরকারের সাথে সস্পৃক্ত যে কোনো কিছুই তুরস্কের বৈধ টার্গেট, এবং তাদের আঘাত করা হবে। 

আংকারার অনুরোধে আজই ব্রাসেলসে নেটো জোটের এক জরুরি বৈঠক হতে যাচ্ছে। তবে বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস বলছেন, এ ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুমিকা প্রায় দর্শকের মতো হয়ে পড়েছে। কারণ রাশিয়া ছাড়া এখানে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর ভূমিকার পালন করার মতো কেউ নেই। তিনি বলছেন, এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির ব্যর্থতা বোঝা যায়।

দামেস্কের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইদলিবে তার ভাষায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দীর্ঘায়িত করতে পশ্চিমাদের কোনো চেষ্টা তারা মেনে নেবে না।

তুরস্ক সিরিয়ার ব্যাপারে এতো বেশি জড়িয়ে পড়েছে কেন?

সিরিয়ার সাথে তুরস্কের দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বাশার আসাদের কট্টর বিরোধী। ফলে সিরিয়ার থেকে পালানো মানুষজন তুরস্ককে তাদের স্বাভাবিক গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে।

আরো একটি গভীর কারণ হলো, সিরিয়ায় যে কুর্দি জনগোষ্ঠী আছে তারা যেন বাশার আসাদবিরোধী বিদ্রোহের সুযোগে তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে - সেই চেষ্টা করে চলেছে তুরস্ক। কারণ আংকারার ভয়, এর ফলে তুরস্কের ভেতরকার কুর্দি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্রোহের উসকানি তৈরি হবে। তাই তুরস্ক চায়, সীমান্ত এলাকা থেকে কুর্দিদের তাড়িয়ে অন্য প্রায় ২০ লাখ সিরিয়ানদের সেখানে পুনর্বাসিত করতে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা