kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির বদলীর ইস্যুতে তোলপাড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির বদলীর ইস্যুতে তোলপাড়

বিচারপতি এস মুরলীধর

অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ভারতের দিল্লির পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এদিকে, দিল্লি হাইকোর্টের প্রবীন বিচারপতি এস মুরলীধরকে বদলি করা হয়েছে। আর এই বদলীর ঘটনাকে নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক। 

জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে বিচারপতি এস মুরলীধরের বদলির নির্দেশ আসে। তাঁকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়েছে । বুধবারই তাঁর এজলাসে দিল্লির সংঘর্ষের নিয়ে শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র, দিল্লি সরকার ও দিল্লি পুলিশকে তাঁর তোপের মুখে পড়তে হয়। তারপরই রাতে বিচারপতির বদলির নির্দেশকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয় ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। 

এদিকে, প্রতিটি ঘটনাকে একসূত্রে বেঁধে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে ছাড়ছে না বিজেপি বিরোধী শিবির।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই  বিচারপতির বদলির জেরে সরব হয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁরা মন্তব্য করেছেন,দিল্লির এই হিংসা রুখতে যেভাবে বিচারপতি বেআব্রু করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে তাতেই কার্যত শিরে সংক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। তাই তড়িঘড়ি রাতেই এই প্রবীন বিচারপতিকে বদলির সিদ্ধান্ত জানান হয়েছে। এইভাবেই পালিয়ে বাঁচতে চান পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতারা।

কংগ্রেসের এই দাবিকে নস্যাৎ করে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ জানান, এটা একটা রুটিন বদলি। আগে থেকেই বিচারপতি এস মুরলীধরের বদলি হওয়ার নির্দেশ জারি ছিল। এর সঙ্গে দিল্লি হিংসা মামলা শুনানির কোনও সম্পর্ক নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি মুরলীধরকে সুপ্রিমকোর্টের কলেজিয়াম বদলির জন্য প্রস্তাব দেয়।

সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে,সংবিধানের ২২২ নম্বর ধারার ১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করা হয় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধরকে৷”

বৃহস্পতিবার সকালেই কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূরজেওয়ালা সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন,দিল্লিতে হিংসা ছড়াতে যে সকল বিজেপি নেতারা উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন বিচারপতি এস মুরলীধর। তার জেরেই বিজেপি নিজের পিঠ বাঁচাতে পত্রপাঠ বিদায় করে দিচ্ছেন বিচারপতিকে। দিল্লির এই হিংসা প্রাণ কেড়েছে ৩৪ জনের।

সূরজেওয়ালার এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন আইনমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করার অধিকার নেই কংগ্রেসের। পরিবারতান্ত্রিক এই দলটি প্রতিদিনই কোর্টের অবমাননা করতে, দেশের সেনা ও প্রধানমন্ত্রীকে ছোট করতে নানা রকমের মন্তব্য করে যায়।

এদিকে, রাহুল গান্ধী সোহরাবুদ্দিন হত্যা মামলা চলাকালীন বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। 

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। পরে দেশের শীর্ষ আদালত বিচারপতি লোয়ার মৃত্যু মামলাকে একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা বলে পিটিশন খারিজ করে দেয়।

রবিশঙ্কর প্রসাদ রাহুলের টুইটের পাল্টা জবাবে বলেন, যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে বিচারপতি লোয়ার মামলাটির সমাধান করা হয়। তবে রাহুল গান্ধী কি নিজেকে শীর্ষ আদালতের থেকেও উচ্চ ব্যক্তিত্ব বলে মনে করেন?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা