kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

দিল্লি পুলিশকে তুলোধুনা করলো হাই কোর্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দিল্লি পুলিশকে তুলোধুনা করলো হাই কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পর দিল্লি পুলিশকে তুলোধুনা করল দিল্লি হাই কোর্টও। দেশটির রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছিল সর্বোচ্চ আদালত। এবার দিল্লি হাই কোর্ট সরাসরি বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করার জন্য দিল্লি পুলিশকে দূষল। সেই সঙ্গে উদ্বেগের স্বরে বিচারপতি বললেন, ‘আমরা কেউ চাই না আরেকটা চুরাশির শিখ দাঙ্গা হোক।’

দিল্লির হিংসার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে একটি আবেদন জমা পড়েছিল হাই কোর্টে। বিচারপতি এস মুরলীধর রাও এবং তালওয়ান্ত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি শোনে। এই মামলায় দিল্লি পুলিশের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনালের তুষার মেহেতা (Tushar Mehta)।

শুনানি চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিজেপি নেতাদের ভিডিওগুলিকে হাতিয়ার করে আদালত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে বলে, ‘দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে পরামর্শ দিন, এই ধরনের উসকানিমূলক ভাষণ দেওয়ার জন্য তিন বিজেপি নেতার (কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, প্রবেশ বর্মা) বিরুদ্ধে এফআইআর করা হোক।’

যাঁর প্রেক্ষিতে দিল্লির ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার রাজেশ দেও বলেন, তিনি হিংসার বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখেছেন। কিন্তু, কপিল মিশ্রর ভিডিও দেখেননি। ডেপুটি কমিশনারের এই মন্তব্যে আরও ক্ষেপে যায় দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁকে তিরস্কার করে বিচারপতিরা বলেন, ‘ব্যাপারটা খুবই উদ্বেগজনক। আপনাদের অফিসে অনেক টিভি আছে। তা সত্ত্বেও একজন অফিসার কেমন করে বলতে পারেন যে তিনি এই ভিডিও দেখেননি।’

এরপরই ভরা এজলাসে চালানো হয় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রর (Kapil Mishra) বিতর্কিত ভিডিও। প্রসঙ্গ তোলা হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এবং বিজেপি সাংসদ প্রবেশ বর্মার বিতর্কিত বয়ানবাজিরও। শুনানি চলাকালীন দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতিরা মন্তব্য করেছেন, ‘আরও একটা চুরাশির শিখ দাঙ্গা হোক সেটা আমরা চাই না। অন্তত দিল্লি হাই কোর্টের চোখের সামনে তেমনটা হতে পারে না।’

এরপরই দিল্লি পুলিশকে তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই সঙ্গে হিংসা কবলিত এলাকায় আক্রান্তদের দ্রুত সহযোগিতার জন্য কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আক্রান্তদের দ্রুত সহায়তার জন্য হেল্পলাইন খোলা, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা