kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অবশেষে ছেলেরা জানল- তাদের মা মুসলিম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে ছেলেরা জানল- তাদের মা মুসলিম

১২ বছরের এক কিশোরীকে ভারতের গুয়াহাটির রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখে ১৭ বছরের কিশোর রামদুলারি প্রসাদের মায়া হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা কিশোর গুয়াহাটিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করত সে সময়। মেয়েটিকে সে মালিকেরর কাছে নিয়ে যায়। মালিক তাকে বাড়ির কাজ করার কথা বলে থাকতে দেন।

রামদুলারির বয়স যখন ২৩ বছর, ওই সময় গোরক্ষপুর নিজের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ততদিনে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছে ওই কিশোরীও। পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতে প্রেমও হয়ে গেছে।

রামদুলারি মালিকের কাছে গিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করতে চান। তবে মেয়েটির নাম সরিতন্নেসা, মুসলিম। তবে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে হয়। বউয়ের নাম দেয়া হয় ‘আশাদেবী’। 

গুয়াহাটিতে বিয়ে সেরে রাম ও আশা পাড়ি দেন গোরক্ষপুরে। পেছনে পড়ে থাকে সরিতন্নেসার অতীত। সেই স্মৃতি, গুগল আর ছেলের নাছোড়বান্দা মনোভাবের জেরেই ৪০ বছর পর দেখা হলো মা-মেয়ের।

মেয়েকে দেখে আত্মহারা, অশীতিপর হাজেরা খাতুন জানান, অভাবের সংসার। তাই একমাত্র মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই গুয়াহাটিতে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতাম। মেয়েকে রেখে যেতাম অস্থায়ী আস্তানায়। এক দিন আমাকে খুঁজতে বেরিয়ে হারিয়ে যায় সরিতন্নেসা। বহু খোঁজাখুঁজির পরেও মেয়েকে না পেয়ে গ্রামে ফিরে আসি।

এদিকে, রামদুলারি ও আশাদেবীর তিন সন্তান। এখনো মিস্ত্রির কাজ করা রামদুলারি ছেলেদের লেখাপড়ায় কার্পণ্য করেননি। বড় ছেলে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্ন। মেজো ছেলে বিজ্ঞানের শিক্ষক। ছোট ছেলেও ডাক্তারি পড়ছে। 

আশাদেবী বলেন, ছোট ছেলেকে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকতে দেখে একদিন বলি, খুঁজে দে দেখি আমার গ্রামটা। নগরবেরা আর জলজলি নদীর নামটুকুই মনে ছিল।

ছেলে খোঁজ শুরু করে। মিলে যায় নগরবেরার সার্কল অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দাসের মোবাইল নম্বর। সেখানে ফোন করেই মায়ের গল্প শোনায় ছেলে। ধ্রুবজ্যোতি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কল্যাণপুর-বালিজারা গ্রামে হাজেরা খাতুনের মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। সেই গ্রামের পাশেই বইছে জলজলি। গত সপ্তাহে স্বামী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ৪০ বছর পর সরিতন্নেসা হাজির হন তার শৈশবের গ্রামে। ১২ বছরের সেই হারানো মেয়ে এখন ৫২ বছর বয়সী। তিন সন্তানের মা। হাজেরা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেন না!

কিন্তু হিন্দু মা যে আসলে মুসলিম, তা জেনে সমস্যা হয়নি ছেলেদের। আশাদেবী জানান, ছেলেরা বড় হওয়ার পরেই সে কথা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। মায়ের জন্মগত ধর্ম নিয়ে তাদের কারো মাথাব্যথা ছিল না। 

রামদুলারি বিশ্বাস করেন, একদিন অসহায় এক কিশোরীকে আশ্রয় দিয়ে যে পুণ্য করেছেন, তারই ফল তিন রত্ন-ছেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা