kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ

ঘর ছেড়ে রাস্তায় দিল্লির আরেক এলাকার নারীরা, মাঝরাতে পুলিশের হানা (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৮:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘর ছেড়ে রাস্তায় দিল্লির আরেক এলাকার নারীরা, মাঝরাতে পুলিশের হানা (ভিডিও)

ভারতে বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গত ২০ দিন ধরেই দিল্লির শাহিন বাগে চলছে বিক্ষোভ সমাবেশ। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে দিল্লির খুরেজি নামক এলাকায় দেখা যাচ্ছে একই ঘটনা। এই আইনের প্রতিবাদে প্রায় পাঁচশ নারী এক হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন খুরেজিতে। পরবর্তীতে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজারের কাছাকাছি।

ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভ সমাবেশে যাতে বিশৃঙ্খল না হয়ে যায়, সেজন্য সেখানে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। সাদাফ খান নামক এক ছাত্রী, যিনি জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়তেও প্রতিবাদের আয়োজন করেছিলেন, তিনি এই স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে একজন। তিনি বলেন, ব্যাজ পরিহিত স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম দলটি মানববন্ধন করে ঘিরে রেখেছে গোটা প্রতিবাদ অঞ্চল। 

তিনি জানান, দ্বিতীয় দল সংবাদমধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের দিকটি দেখছে। তৃতীয় দল দায়িত্ব নিয়েছে উপস্থিত সকলকে খাবার, পানি এবং চা সরবরাহ করার। স্বতন্ত্র একটি চতুর্থ দল দায়িত্বে রয়েছে বিদ্যুত সরবরাহ এবং প্রধান ফটক পাহারা দেওয়ার। অস্থায়ী তাঁবুর আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় রাখা কার্ডবোর্ডের বাক্স ব্যবহৃত হচ্ছে ডাস্টবিন হিসেবে।

সমগ্র বিষয় নিয়ে সাদাফ খান স্থানীয় গণমাধ্যমে জানান, যারা শাহিন বাগে প্রতিবাদ করছেন, তারা বহু বাড়িতে থাকা নারীর কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেছেন। এমন নারীরা যারা বাড়িতে আটকে রয়েছেন, ছেড়ে বের হতে পারেন না, তাদেরই কণ্ঠস্বর জমায়েতে থাকা নারীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশ থাকা জিনাত নামের এক নারী জানান, তিনি প্রথম দিন থেকেই আসছেন এই প্রতিবাদ সামাবেশে। গত দু’দিন ধরে বাড়িও যাননি তিনি। তিনি বলেন, আমি সবার সঙ্গেই রয়েছি, কারণ এখানে যারা রয়েছেন তারা সকলেই আমার বোন।

এখানে কেন এসেছেন, এর উত্তরে তিনি বলেন, আজাদির (স্বাধীনতা) জন্য। আমার সন্তানদের কী হবে, সেটা নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আমারই বা কী হবে? আমি আমার সম্মানের জন্য চিন্তিত। 

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিষয়ে কথা বলতে গেলে কেঁদেই ফেলছেন ৭০ বছর বয়সী শামা পারভিন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে আমি সবাইকে হারিয়েছিলাম। এই নিয়ে কথা বলতেও কষ্ট হয়। আমার গোটা পরিবার শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আপনি, আমি, আমরা সবাই মানুষ। হিন্দু-মুসলমান এগুলো শুধু নাম, আসলে সবই এক। আমাদের মৈত্রী বজায় রেখে বাঁচা উচিত। নাহলে কিছুই আর থাকবে না।

এদিকে, খুরেজিতে চলা নারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও পুলিশের হস্তেক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তাদেরকে বিক্ষোভ সামবেশ থেকে উঠিয়ে দিতে চায় স্থানীয় পুলিশ। এই জন্য পুলিশ ওই এলাকার সব ধরনের লাইট বন্ধ করে দেয়। এসময় পুলিশ তাদের সব তাঁবু উপড়ে ফেলে দেয়। সেই সঙ্গে তাদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়। এতো কিছুর পরও সমাবেশস্থল থেকে উঠে যাননি আন্দোলনকারীরা। তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। এমন সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক আন্দোলনকারী বলেন, আপনাদের আমরা পছন্দ করি না। আপনারা চলে যান। আমরা আপনাদের মুখে থুতু ছিটাই। পরে চলে যায় পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা