kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অগ্নিগর্ভ আসামে কার্ফু, ত্রিপুরায় প্রতিরোধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অগ্নিগর্ভ আসামে কার্ফু, ত্রিপুরায় প্রতিরোধ

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু ছাত্রছাত্রী

গতকাল ভারতের রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) পাস হয়েছে।  রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপনের আগে থেকেই এর প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়েছিল ত্রিপুরা। আজ অগ্নিগর্ভ হলো আসাম। এই পরিস্থিতিতে আজ সন্ধ্যা থেকেই গুয়াহাটিতে কার্ফু জারি করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট, এসএমএস পরিষেবা। নামানো হয়েছে দুকলাম সেনা। বঙাইগাঁও এবং ডিব্রুগড়েও দু'কলাম সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

গুয়াহাটিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা অন্যত্র সরানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।

জানা গেছে, সিএবি নিয়ে আসামে কোনও সংগঠন আন্দোলনের ডাক দেয়নি। তা সত্ত্বেও হাজার হাজার প্রতিবাদী যুবক এ দিন পথে নেমে পড়েন, যাদের অধিকাংশই ছাত্রছাত্রী। অচল হয়ে যায় গুয়াহাটি। রাজধানী দিসপুরের সচিবালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ফেলেন প্রতিবাদীরা। এই পরিস্থিতিতে আজ সন্ধ্যা থেকেই গুয়াহাটিতে কার্ফু জারি করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট, এসএমএস পরিষেবা। নামানো হয়েছে দু’কলাম সেনা। বঙাইগাঁও এবং ডিব্রুগড়েও দু’কলাম সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গুয়াহাটিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা অন্যত্র সরানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।

এদিকে, ত্রিপুরায় গতকালের হামলার জেরে আজ বৃহস্পতিবার  বহু জায়গায় স্থানীয়রা পাল্টা প্রতিরোধে নামেন। ধলাই জেলার কমলপুরে দুপক্ষকে হঠাতে পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি চালায়। মূলত জনজাতি প্রধান জেলাগুলিতে কোথাও লাঠি চালাতে হয়, কোথাও ছুড়তে হয় কাঁদানে গ্যাস। বহু এলাকায় জারি হয় ১৪৪ ধারা। অসম ও ত্রিপুরার জন্য ৫০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী না হয়েছে। কাশ্মীর থেকেই আনা হয়েছে ২০ কোম্পানি।

আসামের পরিস্থিতি প্রবীণদের আসুর ছাত্র-আন্দোলনের দিনগুলি মনে করিয়ে দিচ্ছে। আজ সকাল থেকেই গুয়াহাটির বিভিন্ন রাস্তায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ছাত্র-যুবরা। রাত পর্যন্ত টায়ার জ্বালিয়ে, স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় অবরোধ চলছে। ফ্যান্সিবাজার, পানবাজার, উলুবাড়ি, গণেশগুড়িতে সকালে দোকানপাট খুললেও পরে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। সব চেয়ে বড় জমায়েত হয় দিসপুরে সচিবালয় তথা ‘জনতা ভবন’-এর সামনে। গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়, কটন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ব্যারিকেড ভেঙে জনতা ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে। আক্রান্ত হয় একাধিক বিজেপি নেতার বাড়ি এবং দলীয় দফতরও।

জানা গেছে, দিসপুর, গণেশগুড়িতে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশকে শূন্যে গুলি চালায়। এবিসি, ডাউন টাউন, জি এস রোডে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা হলে পুলিশ লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। কোথাও কাঁদানে গ্যাসের সেল তুলে নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাল্টা ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। সন্ধ্যায় দিসপুরে একটি বাসে আগুন লাগানো হয়। এর পরেই গুয়াহাটিতে কার্ফু জারির সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

আন্দোলন ছড়িয়েছে যোরহাট, গোলাঘাট, তিনসুকিয়া, শিবসাগর, বঙাইগাঁও, নগাঁও, শোণিতপুর-সহ বিভিন্ন জেলায়। ডিব্রুগড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু ছাত্রছাত্রী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা