kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মা সমকামী, নিজেও লিভ-ইনে; এখন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মা সমকামী, নিজেও লিভ-ইনে; এখন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী

বংশে তিনিই প্রথম পেরিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি। তখনো কেউ ভাবতে পারেননি একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন শ্রমিক পরিবারের মেয়েটি। ৩৪ বছর বয়সে দায়িত্ব নিয়েছেন ফিনল্যান্ডের। শুধু ওই দেশেরই নন, সানা ম্যারিন সারা বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে সানার জন্ম ১৯৮৫ সালের ১৬ নভেম্বর। ১৯ বছর বয়সে হাই স্কুল উত্তীর্ণ হন। তিন বছর পরে স্নাতক হন ইউনিভার্সিটি অব ট্যাম্প্রে থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্সেস বিষয়ে। রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২৭ বছর বয়সে।

ট্যাম্প্রে সিটি কাউন্সিলের সদস্য হন ২৭ বছর বয়সেই। এরপর চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দ্বিতীয় ডেপুটি চেয়ারপার্সন হন। ২০১৫ সালে ৩০ বছর বয়সে প্রথমবার ফিনল্যান্ড পার্লামেন্টের সাংসদ নির্বাচিত হন ম্যারিন। ২০১৯ সালের ৬ জুন দায়িত্ব নেন সে দেশের যোগাযোগ ও পরিবহণমন্ত্রী হিসেবে।

ডাকবিভাগে ধর্মঘট নিয়ে মতভেদের জেরে জোটসঙ্গী সেন্টার পার্টি সমর্থন তুলে নেওয়ায় সম্প্রতি সরকার ভাঙে ফিনল্যান্ডে। আস্থা ভোটে হেরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অ্যান্টি রিনে। সেই শূন্য আসনে ম্যারিনকে নির্বাচিত করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা। খুবই অল্প ভোটে জিতে তিনি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা তার।

রাজনীতি-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যারিনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ডাকবিভাগের সাতশ কর্মীর বেতন-ছাঁটাই নিয়ে এখনো অচলাবস্থা রয়েছে এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির একাংশে। চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন দলীয় নেত্রী। পিছু হটেছেন ডাক বিভাগের সংস্কার সিদ্ধান্তেও। এখন রিনের উত্তরসূরি হিসেবে যাবতীয় পরিস্থিতি সামলাতে হবে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীকে।

ম্যারিন অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বয়স বা লিঙ্গ নিয়ে আমি কোনোদিন ভাবিনি। কেন আমি রাজনীতিতে এসেছি, সেটাই ভাবি। ভাবি, কেন আমি দলের আস্থাভাজন হলাম। যথাযথভাবে নিজের দায়িত্বপালনের চেষ্টা করব।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ফিনল্যান্ডের ওপর গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর চাপ রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ রক্ষায় দায়বদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েই ম্যারিন বলেন, দেশ তথা গোটা বিশ্বের আস্থা অর্জনের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।

তবে ওই দেশের বড় অংশ নির্বাচন ঘিরে বেশ উৎসাহী। কারণ, ফিনল্যান্ডে যে পাঁচ দলের জোট সরকার, তার প্রত্যেকটির নেতৃত্বে রয়েছেন নারীরা। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ম্যারিন, বামপন্থী জোটের নেতৃত্বে ৩২ বছর বয়সী লি অ্যান্ডারসন, মধ্যপন্থী জোটে ৩২ বছর বয়সি ক্যাট্রি কালমানি, গ্রিন লিগে ৩৪ বছরের মারিয়া ওহিসালো এবং সুইডিশ পিপলস পার্টি অব ফিনল্যান্ডের নেতৃত্বে আছেন ৫৫ বছর বয়সি অ্যানা-মাজা হেনরিকসন।

এর আগে বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইউক্রেনের ওলেক্সি হোঞ্চারুক। সম্প্রতি ৩৫ বছর বয়সে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তাকে রেকর্ডের দৌড়ে টেক্কা দিয়েছেন সানা ম্যারিন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্নের বয়সও ৪০ পার হয়নি। এরই মধ্যে তার সঙ্গে ম্যারিনের তুলনা শুরু হয়ে গেছে। জেসিন্ডার মতো ম্যারিনও সদ্য মা হয়েছেন। ম্যারিনের মেয়ে এমার বয়স এখনো দুই বছর হয়নি। এমার জন্ম ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে।

ম্যারিন অবশ্য এখনো বিয়ে করেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভ ইন করছেন পার্টনার মার্কাস রাইক্কোনেনের সঙ্গে। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা আছে দু’জনের। যে পরিবারে ম্যারিনের বড় হওয়া, সেটিও বেশ বৈচিত্রময়। ম্যারিন নিজে সমলিঙ্গ দম্পতির সন্তান। ‘সমলিঙ্গ বাবা-মা’ বা ‘সেমসেক্স কাপল’ একটি বিস্তৃত ধারণা। এলজিবিটি পেরেন্টিং বলতে বোঝায় সেই সব লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল এবং ট্রান্সজেন্ডারদের, যারা শিশুদের লালনপালন করছেন।

ম্যারিনের শৈশব কেটেছে ভাড়া বাসায়। তাকে বড় করে তোলেন মা এবং মায়ের সঙ্গিনী। পারিবারিক পরিচয় দিতে শৈশবে বারবার হোঁচট খেয়েছেন তিনি। সেটা জানিয়েছেন ম্যারিন নিজেই। গুটিয়ে রাখতেন নিজেকে। কিন্তু তাকে বরাবর আত্মবিশ্বাস আর সাহস জুগিয়েছেন তার মা। এখন দেশবাসীর ভরসাকে অটুট রাখার দায়িত্ব ৩৪ বসন্ত পেরোনো সানা ম্যারিনের কাঁধে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা