kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

অটোতে ফেলে যাওয়া স্যুটকেসে তরুণীর মুণ্ডহীন দেহ, বাবা গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অটোতে ফেলে যাওয়া স্যুটকেসে তরুণীর মুণ্ডহীন দেহ, বাবা গ্রেপ্তার

স্যুটকেসের ভেতরে একজন তরুণীর মুণ্ডহীন দেহ। তিন টুকরো করা আছে দেহ। ভোরবেলায় এমন স্যুটকেস উদ্ধারের পর হন্যে হয়ে অপরাধীর খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। তবে কোনো সূত্রই মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত ওই স্যুটকেসের ভেতরের দুর্গন্ধের সূত্র ধরেই অপরাধের রহস্যভেদ করে ভারতের মহারাষ্ট্র পুলিশ। মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই!

পুলিশের দাবি, ওই তরুণীর হত্যাকারী অন্য কেউ নন, তারই বাবা অরবিন্দ তিওয়ারি! মেয়েকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে কেটে স্যুটকেসে ভরে ফেলে পালিয়েছেন তিনি। সোমবার ঠাণের টিটবালার ৪৭ বছর বয়সী অরবিন্দকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মেয়ে প্রিন্সির সঙ্গে তার প্রেমিকের মেলামেশা পছন্দ ছিল না অরবিন্দের। নিষেধ করা সত্ত্বেও প্রেমিকের সঙ্গ ছাড়তে নারাজ ছিল মেয়ে। সে কারণে মেয়েকে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ বলছে, রবিবার ভোরে কল্যাণ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে একটি অটোর ভেতর থেকে ওই স্যুটকেস উদ্ধার করা হয়। সেখানকার অটো চালকরাই স্যুটকেসের ব্যাপারে পুলিশকে জানায়। পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ লোন্ডে বলেন, স্যুটকেসের ভেতর এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করি আমরা। মাথা নেই। শুধু কোমরের নীচের অংশটি রয়েছে। দেহ তিন টুকরো করা।

ঘটনার তদন্তে নেমে অটোচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। সে সময় এক অটোচালক জানান, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তার অটোতে এক ব্যক্তি ওই স্যুটকেস নিয়ে উঠেছিলেন। তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়েই অটোতে স্যুটকেস রেখে নেমে যান তিনি। এর পর পুলিশকে খবর দেন আশপাশের অটোচালকরা। 

এর পর তদন্তে নেমে কল্যাণসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। তাতে দেখা যায়, ওই একই ধরনের স্যুটকেস নিয়ে ট্রেনে উঠছেন দু'জন ব্যক্তি। তবে তার মধ্যে লাল শার্ট পরা এক ব্যক্তি স্টেশনের ধারে একটি শৌচাগারে ঢুকছেন। কিন্তু, সেখান থেকে বের হচ্ছেন সাদা শার্ট পরে। তাতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। সিসিটিভি ফুটেজে আরো দেখা যায়, লাল শার্ট পরা অবস্থায় একটি অটোতে উঠছেন ওই ব্যক্তি। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চেহারা দেখেই এর পর স্থানীয় এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। 

শেষ পর্যন্ত স্যুটকেস উদ্ধারের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন অরবিন্দ। মেয়েকে হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের অন্ধেরি এলাকায় একটি লজিস্টিক ফার্মের কর্মী অরবিন্দ টিটবালায় একাই থাকতেন। তার স্ত্রী এবং চার মেয়ে থাকেন উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে। তবে মাসচারেক আগে রোজগারের সন্ধানে সেখান থেকে মুম্বাই আসেন অরবিন্দের ২২ বছরের মেয়ে প্রিন্সি। সেখানে একটি সংস্থার কাজ করার সময়ই সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক সহকর্মীর সঙ্গে। 

তবে সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি অরবিন্দ। পুলিশের দাবি, নিষেধ করা সত্ত্বেও কথা না শোনায় মেয়েকে খুনের পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, স্যুটকেস উদ্ধারের দিন দুয়েক আগেই মেয়েকে খুন করেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত প্রিন্সির দেহের বাকি অংশ এবং খুনের অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধের রহস্যভেদ করার জন্য তদন্তকারীদের পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ঠাণের পুলিশ কমিশনার বিবেক ফণসালকর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা