kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছে

লোকসভায় অমিত শাহ। ছবি: পিটিআই

অবশেষে সোমবার মধ্যরাতে ভারতের লোকসভায় পাস হলো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। সাত ঘন্টার তীব্র বিতর্কের পর এ বিল পাস হয়েছে। এ সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছে। সেই কারণে এখন ধর্মের ভিত্তিতে সেই বিভাজনের রাজনীতি করতে হচ্ছে বিজেপিকে। আর এক্ষেত্রে কংগ্রেসের দেশভাগের সম্মতিকেই দায়ী করেছেন অমিত শাহ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ওই বিল পাশ হওয়ার ফলে প্রতিবেশী তিন দেশের অ-মুসলিম সংখ্যালঘু শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু ওই আইনের সঙ্গে এ দেশের মুসলিমদের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই আইন পাশ হলে ভারতের মুসলিম সমাজের কোনও সমস্যা হবে না।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সমালোচনার বিরোধীতা করে অমিত শাহ বলেন, আমাদের কেন এই বিল নিয়ে আসতে হলো? স্বাধীনতার সময় যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করা না হতো, তাহলে এই বিলের আজ কোনও প্রয়োজন থাকত না। সাত ঘন্টা ধরে বিল নিয়ে আলোচনার পর যখন ভোটাভুটি হয় তখন ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত পেরিয়েছে। বিলের পক্ষে ভোট দেন ৩১১ জন, বিপক্ষে ছিলেন ৮০ জন। 

বিল পাশের আগে এআইএমআইএম-এর আসাউদ্দিন ওয়াইসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমাদের নাগরিকপঞ্জির জন্য মঞ্চ প্রস্তুতের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা দেশজুড়েই এনআরসি করব। একক অনুপ্রবেশকারীদের সেখানে রেহাই দেওয়া হবে না।

বিলের সপক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এই প্রস্তাবিত আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা, যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে পালিয়ে এসে 'ভয়ংকর' জীবনযাপন করেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই বিল আনতে চলেছে বিজেপি সরকার। এমনকি এই বিল 'অসাংবিধানিক' কিংবা 'সংবিধান বিরোধী' নয়। ১১৯ ঘন্টা ধরে ১৪০ জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, লোকসভায় জোর গলাতেই তা 'অসাংবিধানিক' ও 'সংবিধান বিরোধী' বলেন অমিত শাহ।

তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে 'চিন্তিত' মুসলিমদের আশ্বাস দিয়ে অমিত শাহ জানান, এই আইনের ফলে মুসলিমদের কোনও ভয়ের কারণ নেই। তিনি বলেন মুসলমানদের একত্রিত করে বিলের বিপক্ষে সুর চড়ানো হচ্ছে, কিন্তু পড়শি তিন দেশ থেকে যদি কোনও 'সজ্জন' মুসলিম নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন তবে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে। যদিও রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ করে শাহ জানিয়ে দেন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না বাংলাদেশ থেকে আগত রোহিঙ্গাদের।

নাগরিকত্ব বিল নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েই শাহ বলেন, গোটা বিলের নেপথ্যে রয়েছে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর তত্ত্ব মেনে নিয়ে কংগ্রেসের দেশভাগকে সমর্থনের রাজনীতি। ১৯৫০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের রক্ষার জন্য নেহরু-লিয়াকত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তাঁরা কিন্তু ভারতে সুরক্ষিতই ছিলেন কিন্তু পাকিস্তানে তাঁরা নির্যাতিত হয়েছিলেন। আপনারা কি বলতে চান, পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে মুসলিমদের ওপরে অত্যাচার হবে? এটা হতে পারে না। 

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা