kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পার্লারের আড়ালে মধুচক্র, কলকাতায় আটক ৩০, যৌনকর্মীদের উদ্ধার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পার্লারের আড়ালে মধুচক্র, কলকাতায় আটক ৩০, যৌনকর্মীদের উদ্ধার

কলকাতা শহরে রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে চার জায়গায় বিউটি পার্লার এবং স্পা-এর আড়ালে মধুচক্রের সন্ধান পেল কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত পার্লার-মালিক, দালালসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে যৌনকর্মীদের।

যাদবপুর থানার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের একটি বহুতল ভবনের তিনতলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মধুচক্রের মালিকসহ মোট আট অভিযুক্তকে। উদ্ধার করা হয়েছে সাতজন যৌনকর্মীকে।

ভবানীপুরের ভগবান মহাবীর সরণির ‘সুইট অ্যান্ড শাওয়ার’ ফ্যামিলি পার্লার অ্যান্ড স্পা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যৌনকর্মীদের। সেখানে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন মধুচক্রের ম্যানেজার, দু’জন দালাল এবং নয়জন খদ্দের।

দক্ষিণ কলকাতার আরেকটি মধুচক্র থেকে মালিক-ম্যানেজারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জন গ্রাহককে। গড়িয়াহাট থানার রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের ওই ঠিকানা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ছয়জন যৌনকর্মীকে।

পাশাপাশি অভিযান চালানো হয় মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকায়। ১-এ মির্জা গালিব স্ট্রিট ঠিকানায় আছে ‘গাইজ অ্যান্ড ডলস বিউটি পার্লার’। গোয়েন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই পার্লারের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্র। অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এর ম্যানেজার, দু’জন দালাল এবং তিন গ্রাহককে। উদ্ধার করা হয়েছে ছয়জন তরুণীকে।

পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া তরুণীরা দরিদ্র পরিবারের। সামান্য বেতনের পরিবর্তে তাদের এই কাজ করতে হত। তাদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্য কাজের টোপ দিয়ে তাদের আনা হয়েছে। তারপর বাধ্য করা হয়েছে দেহব্যবসায় নামতে। সামান্য বেতনের পাশাপাশি জুটত অভিজাত এলাকার মধুচক্রে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া বখশিস।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে উড়ো ফোনের সূত্র ধরে আলিপুরে একটি মধুচক্রের হদিশ পায় পুলিশ।  কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মহিলা কমিশনের সদস্যরা অভিযানে গেলে আলিপুর রোডের একটি বহুতল ভবনের একতলায় ‘প্রাভাদা থাই স্পা’ থেকে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক গ্রাহক।

পুলিশ বলছে, সেখানেও কাজের টোপ দিয়ে ডাকা হয়েছিল এক তরুণীকে। কিন্তু পৌঁছানোর পর তাকে জানানো হয়, দেহ ব্যবসায় নামতে হবে। কোনো মতে সেখান থেকে পালিয়ে মহিলা কমিশনে ফোন করে পুরো ঘটনা জানান ওই তরুণী। আর সেই সূত্র ধরেই স্পা-এর অন্তরালে মধুচক্রের রূপ প্রকাশ পায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে খবর, প্রথমে ভয়ে ওই তরুণীরা দেহ ব্যবসার কথা অস্বীকার করছিলেন। কিন্তু ঘরের আবহ থেকে শুরু করে তরুণীদের পোশাক কোনোটাই স্পা-এর সঙ্গে মিলছিল না। এর পর আলাদা আলাদা করে ওই তরুণীদের জিজ্ঞাসা শুরু করেন মহিলা কমিশনের সদস্যরা। তখনই সত্য স্বীকার করেন তারা।

গোয়েন্দাদের দাবি, দরিদ্র পরিবারের অসহায় মেয়েদের নিশানা করেই পার্লার, স্পা এর আড়ালে এ ধরনের মধুচক্রের ব্যবসা চালাচ্ছেন নারী পাচারকারীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা