kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বিলে সংশোধনী আনা হয়নি : অমিত শাহ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বিলে সংশোধনী আনা হয়নি : অমিত শাহ

আজ সোমবার ভারতে লোকসভায় পেশ হয়েছে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল। আলোচনার জন্য বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলের একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তোলে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। বিল ঘিরে হইচইয়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হিটলারে’র সঙ্গে তুলনা করেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েইসি। পালটা হইচই জুড়ে দেন বিজেপি সাংসদরাও। বিলটি ‘অসাংবিধানিক’ বলে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেসও। তবে তুমুল হইহট্টগোলের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপে বাধ্য হন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। আজ স্পিকারের নির্দেশমতো, বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেন সাংসদরা। ২৯৩ জন যেখানে পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সেখানে বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৮২টি।

লোকসভার দাঁড়িয়ে দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, এই বিলটি সংখ্যালঘু স্বার্থবিরোধী। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, .০০১% এর জন্যও কোনো সংখ্যালঘুর বিরোধী নয় এই বিল। বিরোধীদের উদ্দেশে তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ, আমি এই বিল নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেব। তবে আপনাদের ওয়াকআউট করা চলবে না।

বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় তৃণমূল কংগ্রেসও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে এই বিল। সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সংবিধানের রচয়িতা আম্বেদকরের আদর্শের বিরোধী এই বিল!

এই প্রসঙ্গে বলতে ওঠে সাংসদ ওয়েইসি বলেন, স্পিকার স্যারের কাছে অনুরোধ, এমন আইনের হাত থেকে দেশকে ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রক্ষা করুন। নয়ত ডেভিড বেন গুরিয়ন ও হিটলারের সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামও উচ্চারিত হবে।

ওয়েইসির মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায় ট্রেজারি বেঞ্চের তরফে। তবে কার্যবিবরণী থেকে ওয়েইসির মন্তব্য বাদ দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি সাংসদদের সতর্ক করেন স্পিকার। বিরোধীদের হইহট্টগোলের মধ্যেই বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, মুসলিমদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সর্বতই ভুল। ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বিলে সংশোধনী আনা হয়নি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম নাগরিক আমাদের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের আবেদন করলে আমরা তা বিবেচনা করব। একইসঙ্গে ওই দেশগুলিতে যে হিন্দু, শিখ বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি ও জৈন'দের প্রতি 'বৈষম্য' করা হয়েছে, লোকসভায় দাঁড়িয়ে তাও বলেন অমিত শাহ। এমন 'শরণার্থীদের নাগরকিত্ব দেওয়া হবে' বলেও জোর গলায় জানান তিনি।

গোটা সময়ে হইচই করতে থাকা কংগ্রেস সাংসদদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কটাক্ষ, আপনারা প্রশ্ন করছেন এই বিলের প্রয়োজনীয়তা কেন? স্বাধীনতার পর কংগ্রেস যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ না করত, আজ আমাদের এই বিলের প্রয়োজন হত না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা