kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

বাবরির রায় পুনর্বিবেচনায় আরো আবেদন জমা পড়ছে সুপ্রিম কোর্টে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবরির রায় পুনর্বিবেচনায় আরো আবেদন জমা পড়ছে সুপ্রিম কোর্টে

বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির গড়ার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে গত সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আরো চারটি পিটিশন দায়ের হয়। এ নিয়ে মোট সাতটি আবেদন জমা পড়ে শীর্ষ আদালতে। শুক্রবার চার আবেদনকারীই দাবি করেন, বাবরি মামলার রায় সঠিক বিচার হয়নি। কোথাও গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিচারব্যবস্থা।

ওই চারটি পিটিশনকেই সমর্থন জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে আবেদন করেছেন মিসবাউদ্দিন, মৌলানা হাসিবুল্লা, হাজি মেহবুব এবং রিজওয়ান আহমেদ। প্রকাশ্য আদালতে এই আবেদনের শুনানি হলে আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করবেন আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান।

বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের রায়ের ২৪ দিনের মাথায় বাবরি নিয়ে প্রথম মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। বাবরি মসজিদ মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের করেছিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনের প্রধান মাওলানা আর্শাদ মাদানি দাবি করেছিলেন, ভারতের মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই রায় পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রায় একই দাবি করে রিভিউ পিটিশনের আবেদন জানায় অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড। দু’পক্ষেরই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি।

মামলা দায়ের হওয়ার পর জমিয়তের শীর্ষ নেতা মাদানি বলেছিলেন, আদালতই আমাদের অধিকার দিয়েছে মামলা করার, তাই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অযোধ্যা মামলায় বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু ছিল মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ তৈরি হয়েছিল কি না।

শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, মন্দির ধ্বংস করেই যে মসজিদ তৈরি হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং মুসলিমদের অধিকার প্রমাণিত। অথচ চূড়ান্ত রায় এর বিপরীতধর্মী। আমরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছি। কারণ, রায় বোধগম্য হয়নি।

যদিও পাঁচ একর জমি মুসলিম পক্ষকে দেওয়ার যে রায় আদালত দিয়েছে, জমিয়ত সেটা মেনে নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি তারা। গত ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ মামলার রায় দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের প্রধান বক্তব্য ছিল, অযোধ্যার মূল বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে রাম মন্দির তৈরিতে কোনো বাধা নেই। মুসলিমদের মসজিদ তৈরির জন্য ওই বিতর্কিত জমির বাইরে পাঁচ একর জমি দিতে হবে সরকারকে।

এই রায় নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে তখন থেকেই অসন্তোষ ছিল। তবে মামলাকারীদের অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জানিয়ে দেয়, রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনে মামলা করবে না তাদের সংগঠন। অন্য কোনো পক্ষও প্রথম দিকে এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। তবে সময় গড়াতেই মামলার প্রস্তুতি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের করে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ।

প্রায় একই দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডও। সেই মামলাও দায়ের করা হয়। মামলা দায়ের হওয়ার পর সংগঠনের নেতারা জমিয়তের সুরেই কথা বলেছিলেন। তাদের বক্তব্য, বাবরি মামলার রায়ের পর থেকেই বিশ্বাস দুর্বল হচ্ছে। ভারতের ৯৯ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই রিভিউ পিটিশনের পক্ষে।

এবার আরো চারটি পিটিশন দাখিল হলো ভারতের শীর্ষ আদালতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা