kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

এনকাউন্টারের পর ভারতের পুলিশকে যেসব আইন মানতে হয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এনকাউন্টারের পর ভারতের পুলিশকে যেসব আইন মানতে হয়

ভারতের হায়দরাবাদে গণধর্ষণের ঘটনায় এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত চারজনেরে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করার কারণেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে। মূলত আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই এনকাউন্টার। 

হায়দরাবাদ পুলিশের এ ধরনের কাজের অনেকেই প্রশংসা করলেও, কেউ কেউ এনকাউন্টারের বিরোধিতাও করছেন। তবে পুলিশের দাবি, আইন মেনেই এনকাউন্টার করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আইনে ঠিক কী রয়েছে? ২০১৪ সালে  ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কোনো পুলিশ এনকাউন্টার করলে ১৬টি বিষয় সামনে আসে। এনকাউন্টার নিয়ে সম্পূর্ণ তদন্তও করা হয়। কী কী রয়েছে সেই গাইডলাইনে?

১. পুলিশ যদি অপরাধের কোনো ইঙ্গিত পায়, সে ক্ষেত্রে তার লিখিত প্রমাণ রাখতে হবে। অন্যথায় রেকর্ড করে রাখতে হবে। রেকর্ডিংয়ের তথ্যে সন্দেহভাজনের নাম বা এলাকা প্রকাশ্যে নিয়ে আসার প্রয়োজন হয় না। উচ্চস্তরে এমন খবর পৌঁছালেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

২. যদি এনকাউন্টারে পুলিশ কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োগ করে থাকে এবং তাতেই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়, সে ক্ষেত্রে এনকাউন্টারের অভিযোগ করতে হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৭ নম্বর ধারায় তা আদালতের কাছেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় ১৫৮ নম্বর ধারা মেনে চলাই নিয়ম।

৩. এনকাউন্টার বা এমন কোনো ঘটনা ঘটলে সিআইডি বা অন্য থানার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশের দল তার তদন্ত করে। এনকাউন্টারে নিহতের নাম পরিচয়, ঘটনাস্থল, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত, এনকাউন্টারের কারণ-সহ বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।

৪. এক্ষেত্রে ১৭৬ নম্বর ধারায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা হয়। ভারতের বিচারপতির কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়।

৫. তদন্ত সন্দেহের অবকাশ থাকলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে যুক্ত করা হয়। অন্যথায় নয়। যদিও ঘটনার সকল তথ্য তাদের জানানো হয়।

৬. এনকাউন্টারে আহতের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়। মেজিস্ট্রেট আহতের বয়ান নেন।

৭. এমন ঘটনায় অবিলম্বে অভিযোগ করা বাধ্যতামূলক।

৮. ঘটনার তদন্তের পর আদালতে রিপোর্ট পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুততার সঙ্গে চার্জশিট তৈরি করতে হয়।

৯. এনকাউন্টারে নিহতের পরিবারকে যত শিগগির সম্ভব খবর দিতে হয়।

১০. এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে ছয় মাসে একবার করে সেসব ঘটনার তথ্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে হবে। কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে তা পাঠানো হয় জানুয়ারি ও জুলাইয়ের ১৫ তারিখে।

১১. তদন্তের পর যদি দেখা যায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ভারতীয় দণ্ডবিধির নিয়মকে লঙ্ঘন করেছে, সেক্ষেত্রে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। সাসপেন্ড করাও হতে পারে তাকে।

১২. ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৭-এ ধারা মেনে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

১৩. ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য এনকাউন্টারে ব্যবহৃত অস্ত্র অথবা অন্য সরঞ্জাম পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখে।

১৪. পুলিশের পরিবারকেও ঘটনার খবর দিতে হয়। তাদের আইনজীবীর প্রয়োজন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

১৫. ঘটনার পরই এর সঙ্গে জড়িত কোনো পুলিশ কর্মীকে পুরস্কৃত করা হয় না। সমস্ত সন্দেহের অবকাশ ঘটার পরই তিনি সম্মানিত হন।

১৬. আহত বা নিহতের পরিবার মনে করলে তদন্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা