kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্রেনে যৌন হয়রানি রুখে দাঁড়ানো তরুণীকে সম্মান জানাল পুলিশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেনে যৌন হয়রানি রুখে দাঁড়ানো তরুণীকে সম্মান জানাল পুলিশ

চলন্ত ট্রেনে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন দৃপ্ত ভঙ্গিমায়। পুলিশে খবরও দিয়েছিলেন তিনি। সেই নারীকে সম্মান জানাল কলকাতা পুলিশ! ওই নারীকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার হাতে স্মারকও তুলে দেওয়া হয়। তার উদ্দেশ্য কলকাতা পুলিশ লিখেছে, যখন আপনি নিজের জন্য দাঁড়াবেন, তখন আপনি সব নারীর পাশেই দাঁড়াচ্ছেন।

চলন্ত ট্রেনে ওই নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল বউবাজার থানার পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে কবি সুভাষগামী একটি ট্রেনে। তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্তের  নাম মনোজ দত্ত। তবে এ ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে সহযাত্রীদের আচরণ। 

কারণ ওই নারীর দাবি, ঘটনার সময় ওই ট্রেনে অল্প কয়েক জন যাত্রী ছিলেন ঠিকই, তবে প্রথমে তারাও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। বরং, ওই নারীকে অন্য সিটে গিয়ে বসার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য অভিযুক্ত, ওই ব্যক্তি মোবাইলে তার ছবি তুলতে শুরু করলে সহযাত্রীরা সেই নারীর সাহায্যে এগিয়ে যান। তারা মোবাইলটি কেড়ে নেন অভিযুক্তের হাত থেকে।

ওই তরুণী জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তিনি পার্ক স্ট্রিটে যাবেন বলে দমদম স্টেশন থেকে একটি ট্রেনে ওঠেন। তিনি নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসেছিলেন। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ট্রেনে ওঠেন বেলগাছিয়া স্টেশন থেকে। নারীদের সংরক্ষিত আসন তখন অনেকটাই ফাঁকা ছিল। ওই ব্যক্তি নারীর পাশে বসেন এবং তার পর থেকেই অসভ্য আচরণ করতে শুরু করেন।

তার কানের কাছে মুখ এনে অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন। প্রথম দিকে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার গা ঘেঁষে বসে অসভ্যতা চালিয়ে যেতে থাকেন ওই ব্যক্তি। বার বার বলা সত্ত্বেও নারীদের আসন থেকে তিনি উঠছিলেন না। তখন ওই ব্যক্তির গালে তরুণী চড় মারেন।

যাত্রীরাই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেন। ট্রেনটি সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছলে ওই ব্যক্তিকে যাত্রীদের একাংশ নামিয়ে স্টেশন মাস্টারের ঘরে নিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় বউবাজার থানায়। থানার কর্মকর্তারা পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যান। রাতেই বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে শ্লীলতহানি, কটূক্তির মতো একাধিক অভিযোগে মামলা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যে মোবাইলে নারীর ছবি তুলেছিলেন অভিযুক্ত, জব্দ করা হয়েছে সেটিও। মঙ্গলবার ওই নারী বলেন, প্রথম দিকে সহযাত্রীরা সাহায্য করলে লোকটি এত সাহস পেত না। তবে পরে অবশ্য সকলে সাহায্য করেছে। পুলিশও তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে আমি খুশি। আশা করি, ওই ব্যক্তি উপযুক্ত শাস্তি পাবে।

শাস্তি কী হবে সেটা সময় বলবে। কিন্তু ওই সাহসিকাকে কুর্নিশ জানিয়ে প্রশংসার মুখে কলকাতা পুলিশও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা