kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

হীরার আংটি আঁচলে বেঁধে পালাল কাজের মেয়ে, এরপর...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৯:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হীরার আংটি আঁচলে বেঁধে পালাল কাজের মেয়ে, এরপর...

প্রতীকী ছবি

হীরার আংটি যাঁরা তৈরি করেন, তাঁরা এ ধরনের আংটি খুব কমই দেখেছেন। শাড়ির আঁচলের খুঁটে বাঁধা ছিল  ৫ লাখ টাকার আংটি। দুটি বড় হীরার মাঝখানে, দুপাশে ছোট ছোট অনেকগুলো হীরা। খুবই সুন্দর দেখতে। পরিচারিকা আঁচলে বেঁধে সটকে পড়েছিল। শুরু হল খোঁজ। পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায়। 

অঞ্জলি মেহেরা সাহাকে তাঁর শাশুড়ি বিয়ের পর হীরা বসানো আংটিটি দিয়েছিলেন। যত্নেই রাখা ছিল আংটিটি। শনিবার রাতে ডোভার লেনে তাঁর বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। অঞ্জলিদেবী গড়িয়াহাটের একটি শাড়ির দোকানের মালিক। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে একটু বেশি রাতে গড়িয়াহাট থানায় ফোন করে জানান, ওই আংটি খোয়া গিয়েছে। আংটির এখনকার মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। 

জানা যায়, পরিবারের বহু সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী সূর্যকান্ত মেহরা। যিনি অঞ্জলিদেবীর বাবা। কথাপ্রসঙ্গে পুলিশ জানতে পারে, অনুষ্ঠানে সূর্যকান্ত মেহরা একজন পরিচারিকাকে সঙ্গে করে এনেছিলেন। ওই পরিচারিকা সম্পর্কে কোনও তথ্য কী গড়িয়াহাট থানায় ছিল?‌ এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই পরিচারিকার কোনও ছবি বা কোনও তথ্য কিংবা বাড়ির ঠিকানা রয়েছে কি না?‌ এ প্রশ্নেরও উত্তর পুলিশ পায়নি।
এরপর একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ফোন নম্বরটি ওই নারীর নয়। কার্তিক সর্দার নামে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে এক বাসিন্দার। 
অনুসন্ধান পর্ব যখন চলছে, জানা যায় ওই অঞ্চলে বাড়ি রয়েছে গড়িয়াহাট থানার একজন গ্রিন পুলিশ কর্মীর। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সে এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে পারে কি না। খোঁজ খবর করে কার্তিক সর্দার কিংবা অনুষ্ঠানে আসা সীমা সর্দারের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশ জানতে পারে, মন্দিরবাজার থানা এলাকার কাছে একটি এলাকা রয়েছে, যেখান থেকে বহু মানুষ কলকাতায় কাজের জন্য আসেন এবং অনেকেই পরিচারিকার কাজ করেন। এরপর সেদিন রাতে সাদা পোশাকের পুলিশ মন্দির বাজার এলাকায় যায়। এবং সীমা সর্দারের খোঁজ শুরু করেন। বিভিন্ন লোককে সীমা সর্দারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। কিন্তু কোনও সুরাহা হয় না। অন্য একটি সূত্রে খবর আসে, সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছে যারা চুরি যাওয়া জিনিসপত্র কিনে নেয়। সীমা অপেক্ষা করছিল পরদিন সকাল হলে ওই আংটি মোটা টাকায় বেচে দেবে। 

সীমা ভেবেছিল, চুরি করে আনা আংটিটি রাতেই বিক্রি করলে ভাল দাম নাও পেতে পারে। অবশেষে সীমাকে পাওয়া যায়। এবং হীরার আংটি উদ্ধার হয়। 

১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমাকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।‌‌

সূত্র : আজকাল 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা