kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ধর্ষণকাণ্ডে আটক কিশোরের বিচার হোক সাবালক হিসেবে, আবেদন পুলিশের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণকাণ্ডে আটক কিশোরের বিচার হোক সাবালক হিসেবে, আবেদন পুলিশের

ভারতের পঞ্চসায়র গণধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক কিশোরকে সাবালক হিসেবে বিবেচনা করে বিচার শুরু হোক। বৃহস্পতিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে ধৃতকে পেশ করে সেই আবেদন জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

দিল্লিতে নির্ভয়াকাণ্ডের পর হত্যা ও গণধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আটকের বয়স ১৬ বছরের বেশি হলেই তাকে সাবালক হিসেবে বিবেচনা করার দাবি উঠেছিল। কেন্দ্রও সেই মর্মে আইন সংশোধন করেছে। 

তবে এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত কিশোরকে সাবালক হিসেবে বিবেচনা করার দাবি পুলিশ জানিয়েছিল কি না, মনে করতে পারেননি অনেকেই। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা-প্রধান মুরলীধর শর্মা বলেন, আমার মনে হয়, এটাই প্রথম। ঘৃণ্য অপরাধের কথা মাথায় রেখে এই কিশোরই প্রথম, যাকে সাবালক হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানানো হলো।

জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড কলকাতা পুলিশের ওই আবেদন গ্রহণ করেছে। আগামী পাঁচ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশকে বোর্ডের কাছে ওই নাবালকের আর্থ-সামাজিক এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। 

লালবাজারের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই রিপোর্টে দেখা হবে, আটক কিশোরের অবস্থান তার পরিবারে এবং সমাজের ঠিক কোন জায়গায়। দেখা হবে, কোন স্তরের মানুষের সঙ্গে সে মেলামেশা করে এবং নানা বিষয় সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া কতটা সাবালক সুলভ।

সেই সঙ্গে আজ শুক্রবারই আদালতে অভিযোগকারির গোপন জবানবন্দির দিন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পঞ্চসায়র-কাণ্ডে ওই কিশোরের যুক্ত থাকার বিষয়টি জানা গেল কীভাবে? পুলিশ সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে নরেন্দ্রপুরের কাঠিপোতা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এই ঘটনায় ধৃত ট্যাক্সিচালক উত্তম রামকে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে উত্তম বলেন, গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি। মহিলা আমার পাশেই সামনের আসনে বসেছিলেন। তার সিটটা কিছুতেই পেছানো যাচ্ছিল না। কালুই (নাম পরিবর্তিত) তখন চেয়ারটা ধরে পিছনে টেনে দেয় ...!

এক তদন্তকারীর কথায়, তখনই আমরা চেপে ধরি। কে এই কালু? জেরার মুখে উত্তম নাবালকের উপস্থিতির কথা জানায়। পুলিশের দাবি, গাড়ির পিছনের দিকের কাচ তোলা থাকায় প্রথমে কোনো ফুটেজ মেলেনি। জেরায় উত্তম বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও নাবালক তা করেনি। 

সে জানিয়েছে, প্রথমে উত্তম এবং পরে সে ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে। গত ১১ নভেম্বর ঘটনার দিন সকাল থেকেই উত্তমের সঙ্গে বসে মদ্যপান করছিল কালু। বিকেলে যে যার বাড়ি চলে গেলেও সন্ধ্যায় মদ্যপান করবে বলে আবারো তারা দেখা করে। উত্তম যখন মহিলাকে গাড়িতে তোলে, তখন গাড়ির পিছনের আসনেই বসে ছিল ওই কিশোর। নানা জায়গায় ঘুরে শেষে কাঠিপোতা এলাকায় পৌঁছে দু’জনে মিলে ধর্ষণ করার পর এক জায়গায় মহিলাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় তারা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা