kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

প্রতি বছর লাখ লাখ গাধা হত্যা করা হচ্ছে চীনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতি বছর লাখ লাখ গাধা হত্যা করা হচ্ছে চীনে

এক ধরনের ওষুধ তৈরির জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ গাধা হত্যা করা হচ্ছে চীনে। যার জেরে আগামী পাঁচ বছরে গাধার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চীনের ঐতিহ্যবাহী ওষুধের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর গাধাদের হত্যা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গাধার চামড়া দিয়ে এজিওয়াও কারখানার ওষুধ বানানো হচ্ছে। যেটা চীনের কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য। চীনের এই ওষুধকে বলা হয় এজিওয়া। আর প্রতিবছর এই ওষুধের চাহিদা মেটাতে দরকার পড়ে ৪৮ লাখ গাধার চামড়া।

বর্তমানে সারাবিশ্বে চার কোটি ৪০ লাখ গাধা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে যেটা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে ব্রাজিলে ২৮ শতাংশ, বতসোয়ানায় ৩৭ শতাংশ ও কাজাগিস্তানে ৫৩ শতাংশ গাধা কমে গেছে। কেনিয়া ও ঘানাতেও চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাপকহারে গাধা হত্যা করায় এর সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে যারা জীবিকার জন্য এইসব প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাছ থেকেও এসব গাধা চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কোনো খাবার কিংবা পানি দেওয়া হয় না। এতে ২০ শতাংশ গাধা যাত্রাপথেই মারা যায়। এমনকি, গাড়ি থেকে কান কিংবা লেজ টেনে নিচে নামানো হয়। এতে প্রাণীটির পা ও খুর ভেঙে যেতে দেখা যায়।
 
ডানকি স্যাংচুয়ারির গবেষণা বিষয়ক পরিচালক ফেইথ বারডেন বলেন, যেখানে বাণিজ্যের যখন গাধাকে হত্যা করা হয়, সেখানে প্রাণী অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ভয়াবহ। আমরা আগে যেমনটা জানতাম, ঘটনা তার চেয়েও মারাত্মক। 

তিনি আরো দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী গাধার চাহিদা এতই বেশি যে, গাধার শাবকেরও চামড়া ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। অসুস্থ আহত গাধাকেও জবাই করার জন্য কসাইখানায় জড় করা হয়।

প্রাণীটি অসুস্থ কিংবা আহত হলেও তাদের চামড়া সংগ্রহে কোনো প্রভাব পড়ে না। শত শত বছর ধরে চীনের ওষুধ বানাতে এসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই ওষুধ মানুষের রক্তস্বল্পতা কমিয়ে আনে ও রক্তসঞ্চালনে সহায়তা করে। ১৯৯২ সাল থেকে চীনে গাধার সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমে গেছে। নিজেদের অভাব পূরণে বিভিন্ন দেশ থেকে গাধা আমদানিও করছে চীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা