kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

'কখনও মনে হয়নি আমি মুসলিম, সারাজীবন সংস্কৃত পড়েছি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:০৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'কখনও মনে হয়নি আমি মুসলিম, সারাজীবন সংস্কৃত পড়েছি'

ফিরোজ খান

ফিরোজ খান। তিন একজন মুসলিম কিন্তু সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক। কিন্তু এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) ছাত্রদের একটি অংশ। শুধু নাই নয়, তার বিরুদ্ধে  বিক্ষোভ চলছে বিএইচইউ-তে। এর জবাবে অধ্যাপক ফিরোজ খান বলেছেন, সারাজীবন সংস্কৃত পড়েছি। কখনও মনে হয়নি আমি মুসলিম। কিন্তু পড়াতে চলেছি যখন, সব আলোচনাই আমাকে নিয়ে...। 

বিক্ষোভের মধ্যেই নিখোঁজ হয়েছেন ওই অধাপক। বন্ধ তাঁর মোবাইল ফোনও। এরই মধ্যে একটি সংবাদপত্রে এসব কথা বলেছেন তিনি।

জানা গেছে, ১২ দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ফিরোজ খা । জয়পুরের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্থান থেকে ডক্টরেট করেছেন ফিরোজ। কিন্তু ওই নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছে এক দল ছাত্র। গতকাল সংস্কৃত বিভাগের ছাত্ররা উপচার্যের বাড়ির বাইরে সমাবেশ করেছেন। অধ্যাপককে তাড়াতে যজ্ঞের ব্যবস্থাও হয়েছে। 

এদিকে, ওই  ঘটনায় হতাশ ফিরোজ বলেন,দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে সংস্কৃত পড়তে শুরু করেছিলাম। বাঙ্গরুতে আমার বাড়ি। সেখানকার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ মুসলিম। কোনও মৌলবি কিংবা সমাজের কেউ আমার সংস্কৃত পড়ার দিকে নজরও দেননি। সত্যি বলতে কী, কোরান নিয়ে আমার জ্ঞান যতটা, সংস্কৃত সাহিত্যে তার চাইতে বেশি। সংস্কৃত সাহিত্যে আমার আগ্রহ দেখে এলাকার হিন্দু নেতারা প্রশংসা করতেন।

বিক্ষোভকারীদের কাছে অবশ্য সেসব গুরুত্ব পাচ্ছে না। 

 বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা গবেষক কৃষ্ণ কুমার বলেছেন, আমাদের ভাবনা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যদি কারও যোগ না থাকে, তিনি আমাদের ধর্মকে বুঝবেন কীভাবে?

ফিরোজ বলেন, ছাত্ররা ভাবছে আমি মুসলিম হয়েও কীভাবে হিন্দু ধর্মের কথা পড়াবো? আমি বলতে চাই, অভিজ্ঞান শকুন্তলম কিংবা উত্তর রামচরিতমের সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই।

তিনি বলেন, আমাকে যদি বেদ, ধর্মশাস্ত্র কিংবা জ্যোতিষ পড়াতে হতো, তা হলে আমি হিন্দু হলেই হয়তো ভাল হত। কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্য পড়ানোর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্কই নেই।

তবে, অন্য বিভাগগুলির ছাত্র এবং অধ্যাপকেরা ফিরোজের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।

বিএইচইউ-এর ইতিহাসের অধ্যাপক মহেশপ্রসাদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে যাঁর, তিনিই পড়াবেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

সূত্র : আনন্দবাজার 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা