kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

“যখন পেছনে’র বিষয় আসে, আপনারা ‘পেছনে’ই থেকে যান”

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



“যখন পেছনে’র বিষয় আসে, আপনারা ‘পেছনে’ই থেকে যান”

আপনি কি মলত্যাগের পর নিজেকে পরিষ্কার করতে পানি ব্যাবহার করেন নাকি টয়লেট পেপার ব্যবহার করেন?

‘একজন আরব হিসেব বাইরে কোথাও যাবার সময় তিনটি জিনিস আমরা সবসময় কাছে রাখি: আমাদের পাসপোর্ট, পর্যাপ্ত অর্থ এবং বহনযোগ্য পাত্র যাতে করে মলত্যাগের পর নিজেকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায়,’ এ বছরের জুনে যুক্তরাজ্যে নিজের প্রথম শো-তে একথা বলেছিলেন মিশরের কৌতুকাভিনেতা বাজেম ইউসুফ।

তিনি শাতাফ নামে সুগন্ধি ছড়ানোর একটি স্প্রেও তুলে দেখান। বলেন, ‘আপনারা বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ।’

কিন্তু যখন ‘পেছনে’র বিষয় আসে তখন আপনারা ‘পেছনে’ই থেকে যান।’

বহু লোকই ইউসুফের সাথে একমত হবেন।

‘চকলেট পুডিং’
অনেক পশ্চিমা দেশেই টয়লেট শেষে পানির বদলে যে মুছে ফেলার প্রবণতা রয়েছে তা বিশ্বের বাকি অংশের জন্যে সত্যিই বিস্ময়ের।

কাগজের তুলনায় পানি অনেক ভালো ভাবে পরিচ্ছন্ন করে।

যারা পানি ব্যবহার করে মলত্যাগের পর নিজেদের পরিষ্কার করেন তারা প্রশ্ন করতেই পারেন যে, আপনি কি নিজের ত্বক থেকে চকলেট বা পুডিং কেবলমাত্র টিস্যু ব্যবহার করে মুছে ফেলতে পারবেন?

এছাড়া, প্রাচীন গ্রীকদের ব্যবহার করা সিরামিক টুকরা বা ঔপনিবেশিক আমলের আমেরিকানদের ভুট্টার খোসার তুলনায় বর্তমানের টয়লেট পেপার নরম হতে পারে, কিন্তু পানি তারচেয়েও কোমল।

বহু জাতিই দীর্ঘদিন ধরে টয়লেট শেষে পানি ব্যবহার করে আসছেন।

‘স্যানিটারি সাম্রাজ্যবাদ’
যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র- পশ্চিমাদের বেশিরভাগই টয়লেট টিস্যুর ওপর নির্ভর করে।

‘আর এই দুই দেশই আধুনিক বাথরুম কালচারে বিশেষ অবদান রেখেছে,’ স্থাপত্য বিষয়ক ইতিহাসবিদ বারবারা পেনার তার বাথরুম নামের গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করেন।

এমনকি অ্যাংলো-আমেরিকানদের বাথরুমের প্রতি প্রবণতা ১৯২০-এর দিকে এতটাই ব্যাপকতা পেয়েছিল যে তাকে অভিহিত করা হয় ‘স্যানিটারি সাম্রাজ্যবাদ’ হিসেবে।

তবুও বেশিরভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলিতে পানিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়, কেননা ইসলামের শিক্ষায় এক্ষেত্রে পরিষ্কারের জন্যে জল ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।

পানি এবং টিস্যু পেপারের বিতর্কে আগ্রহী জুল ওথম্যান। যিনি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে শৌচাগার ব্যবহার নিয়ে অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রকল্পে গবেষণা করছেন।

ওথম্যানের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছুসংখ্যক মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান টয়লেট পেপার ব্যবহারের পর পানির ঝরনা দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করে থাকে।

তবে এভাবে পরিচ্ছন্নতার ধারনাটি কেবল মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

কাগজের ব্যবহার
মুম্বাইয়ের তথ্য গবেষক আস্থা গার্গ, দুই বছর ধরে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে। তিনি টয়লেটের জন্যে স্নানের জন্যে ব্যবহৃত মগের চেয়ে উঁচু বা নিচু পাত্র খুঁজতে লাগলেন।

তিনি খুঁজছিলেন এমন একটি প্লাস্টিকের জগ, যার একটি লম্বা হ্যান্ডেল থাকবে এবং সামনে দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি ঢালা যায়।

শেষ অবধি তাকে একটি ভারতীয় দোকানেই যেতে হয়েছিল।

‘কিছু ভারতীয় টয়লেট পেপারে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও অনেকেই আমাদের মতো যখন সম্ভব পানিকেই বেছে নিতে চায়,’ বলছিলেন তিনি।

ওথম্যান বলছিলেন পশ্চিমাদের এক্ষেত্রে কাগজ ব্যবহারের আধিক্যের কথা।

তিনি বলছিলেন, যুক্তরাজ্যে তার এক বন্ধুর টয়লেট পেপার শেষ হয়ে গেলে শেষমেশ ২০ পাউন্ডের একটি কাগজের নোট ব্যবহার করতে হয়েছিল।

সংগীতশিল্পী কায়সার কুও'র পরিবার একটি হাইব্রিড সমাধান বেছে নিয়েছিল।

তিন বছর আগে যখন তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে আসেন, তখন দুই সংস্কৃতির মিশেলে তারা অভ্যস্ত হয়ে পরে।

তিনি অবাক হন বছরে টয়লেট পেপার ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে।

আমেরিকায় একজন ব্যক্তি প্রতি বছর ১৪১ রোল টয়লেট পেপার ব্যবহার করে থাকে, পরিসংখ্যানে দেখা যায়।

আর্থিক ও পরিবেশগত ব্যয় ছাড়াও অনেকসময় শৌচাগারে জলাবদ্ধতার কারণও হয়ে থাকে টয়লেট পেপারের অধিক ব্যবহার।

কুওর পরিবার বর্তমানে টয়লেট রোলের ব্যবহার কমিয়ে বরং ফ্ল্যাশযোগ্য ভেজা কাপড় ব্যবহার করছে।

বহু সংস্কৃতিই বহু শতাব্দী ধরে জেনে গেছে যে, পানিই যথাযথভাবে পরিষ্কার করে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা