kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মন্দিরে নারীদের প্রবেশ নিয়ে আইন করতে যাচ্ছে ভারত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৩৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মন্দিরে নারীদের প্রবেশ নিয়ে আইন করতে যাচ্ছে ভারত

ভারতের কেরালা রাজ্যে অবস্থিত লর্ড আয়াপ্পার মন্দির শবরিমালা। এই মন্দিরে ভারতের রক্ষণশীল হিন্দুরা দশকের পর দশক ধরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ঋতুমতী নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরে গত বছর এক আদেশে সুপ্রিম কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ অ্যাখ্যা দিয়ে তা তুলে নেওয়ার পক্ষে রায় দেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়। 

জানা যায়, ঐতিহ্যগতভাবে হিন্দু ধর্মে ঋতুস্রাবকারী নারীদের অপরিষ্কার মনে করে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। পরে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, মন্দিরে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় অনুশীলনের যোগ্য নয় এবং এটি ধর্মের স্বাধীনতায় নারীদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই রায়ের বিরোধিতা করে। রক্ষণশীল হিন্দুরা ঋতুমতী নারীদের মন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পুনর্বহাল চাইলেও সুপ্রিম কোর্ট বলছেন, নারী ও ধর্ম সম্পর্কিত নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে; এজন্য সাত বিচারপতির একটি বেঞ্চ কাজ করবে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, শবরিমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশের বিষয়ে আদালত তার সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা পিছিয়ে দিচ্ছে। কারণ এটি ভারতে নারী ও ধর্ম সম্পর্কে বৃহত্তর প্রশ্নে মনোনিবেশ করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত মামলায় কাজ করতে আদালত সাত বিচারপতির বেঞ্চ করে দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আদালতের সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করতে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, মন্দির হলো নিজস্ব ও ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা এবং সেখানে সাংবিধানিক নৈতিকতার বিষয়টি প্রয়োগ করা যায় না। আদালতের রায়ের ফলে বর্তমানে নারীদের মন্দিরে প্রবেশে কোনো বাধানিষেধ নেই। বিচারপতি গগৈ বলেছেন, মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ করা না করার বিষয়টি ভারতীয় সমাজে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তবে রক্ষণশীল দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা