kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

৮০০ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের দায়ে কুয়েত সরকারের পদত্যাগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮০০ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের দায়ে কুয়েত সরকারের পদত্যাগ

ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী পুরো মন্ত্রিসভাকে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। দেশটির আমির সরকারের এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিসভাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গতকাল শনিবার জানিয়েছেন, সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ গোটা মন্ত্রিসভা যে পদত্যাগ করেছেন তার নেপথ্যে ছিল একটি সামরিক সহায়তা তহবিল। অভিযোগ ছিল, ওই তহবিলের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করার দায় নিয়েই পদত্যাগ করতে হয়েছে মন্ত্রিসভাকে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদেনে জানানো হয়েছে, ‘কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের মুবারক আল-সাবাহসহ তার সরকারের পুরো মন্ত্রিসভার পদত্যাগের দুদিন পর শনিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ নাসের সাবাহ আল-আহমাদ এই কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘এটাই সরকারের পদত্যাগের অন্যতম ও মূল কারণ।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ নাসের সাবাহ আল-আহমাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তিনি যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তার আগেই দেশটির একটি সামরিক সহায়তা তহবিল থেকে ২৪০ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার অর্থাৎ ৭৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাৎ-এর ঘটনাটি ঘটে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার সরকার পদত্যাগ করার আগে বিচারিক কর্তৃপক্ষকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়েছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ নাসের সাবাহ আল-আহমাদ কুয়েতের আমিরের বড় ছেলে।

শেখ নাসের আরও জানান যে, অর্থ আত্মসাৎ-এর যে অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠে তার ব্যাখ্যা চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধও করেছিলেন কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার কুয়েত সরকারের মুখপাত্র তারেক আল-মাজরেম এক বিবৃতিতে জানান, মন্ত্রিসভার বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অসদাচারণের অভিযোগ তুলে পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতারা তাদের ব্যাপক সমালোচনা করছেন তাই প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতসীন সরকারের পুরো মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেছে।

তবে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগকৃত মন্ত্রিসভাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়েছেন কুয়েতি আমির। প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের ক্ষমতায় আসার পর বেশ কয়েকবার মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে তার সরকারের ব্যাপক সমালোচনাও হয় সংসদে।

প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভার এই পদত্যাগের মাধ্যমে পরিবার নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের এমন বিতর্কের পর দেশটিতে একটি নতুন সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। শুধু আইনপ্রণেতা নয় দেশটির শত শত সাধারণ মানুষও গত মাসে কুয়েতের পার্লামেন্টের সামনে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা