kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

‘অশুচি’ নারীদের জন্য শবরীমালা মন্দিরের দুয়ার খুলেও খুলল না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অশুচি’ নারীদের জন্য শবরীমালা মন্দিরের দুয়ার খুলেও খুলল না

আদালতের নির্দেশনার পরেও ১০ জন নারীকে শবরীমালার মন্দিরে প্রবেশে বাধা দিল কেরালা পুলিশ। মন্দিরে প্রবেশের আগেই তাদের পথ আটকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাদের। তাদের সবার বয়স ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। প্রসঙ্গত এই বয়সসীমার নারীদেরই শবরীমালার মন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল আগে। 

জানা গেছে, ওই নারীদের মধ্যে একজন অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে এসেছিলেন। মন্দিরের কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। পামবা থেকে কেরালা পুলিশ তাকে জোর করে ফিরিয়ে দেয়। অথচ আজ বিকেল ৫টা থেকে খুলছে মন্দিরের দরজা। আগামী ৪১ দিন ধরে ভক্তদের জন্য খোলা থাকবে মন্দির। হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটবে সেখানে। নারী ভক্তদেরও প্রবেশ করার কথা। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই নারী ভক্তরাও আসতে শুরু করেছেন। 

তবে প্রথমেই থমকে গেল সেই নির্দেশ। কেরালা পুলিশই ফিরিয়ে দিল ১০ জন নারী ভক্তকে। এদিকে কেরালা সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের স্বচ্ছতা দাবি করেছিল। কিন্তু তার পরেও নারীদের জন্য নিরাপত্তার কোনো বন্দোবস্ত করা হয়নি। 

সমাজকর্মী তৃপ্তি দেশাই আগেই জানিয়েছেন, তিনি ২০ নভেম্বর শবরীমালা যাবেন। ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে গত বছরের মতোই উত্তেজনা ছড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পিনারাই বিজয়ন সরকারের পক্ষ থেকে নারীদের জন্য আলাদা করে নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

এদিকে আজ বিকেল ৫টায় পুণ্যার্থীদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হলে পুরুষদের পাশাপাশি মন্দিরে ঢুকতে পারার কথা ১০-৫০ বছর বয়সী নারীদেরও। তার আগে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করেছে রাজ্য সরকার। তবে পুলিশ মোতায়েন হলেও নারী পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখন পর্যন্ত অটল কেরালার বাম সরকার।

মন্দির কোনো আন্দোলনের জায়গা নয়। কোনো নারী শবরীমালায় পূজা দিতে যেতে চাইলে রাজ্য সরকার তাকে পুলি‌শি সহায়তা দেবে না বলে শুক্রবারই সাফ জানিয়ে দেন কেরালার দেবশ্বম মন্ত্রী কড়কমপল্লি সুরেন্দ্র। হাত তুলে নেন মন্দির কর্তৃপক্ষও।

তবে তাতেও দমছেন না এত দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নারীরা। পুণের নারী অধিকার কর্মী তৃপ্তি দেশাই জানিয়েছেন, কেরালা সরকার নিরাপত্তা দিক বা না দিক, মন্দিরে তিনি যাবেনই। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ২০ নভেম্বরের পর শবরীমালায় যাব আমি। কেরালা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আর্জি জানাব। তবে দেবে কি দেবে না, তা তাদের ওপর নির্ভর করছে। তবে নিরাপত্তা না দিলেও, শবরীমালা দর্শনে যাব আমি।

শতাব্দী প্রাচীন নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে গত বছরই শবরীমালায় সব বয়সি নারীদের পূজার অধিকার স্বীকৃতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার পর হাজার হাজার মানুষের বাধা অতিক্রম করে ওই মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন কয়েকজন নারী। সেই সময় তাদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছিল পুলিশকে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হন বহু মানুষ। সেই ঘটনার পরই আদালতে মামলা পুনর্বিবেচনা করে দেখতে একাধিক আর্জি জমা পড়েছিল। দিন কয়েক আগেই যা সাত বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগেই মন্দির খুলে যাওয়ায় নারীদের নিরাপত্তা দিতে অস্বীকার করে কেরালা সরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা