kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

মশা মারতে স্যাটেলাইটের ব্যবহার, বিশেষজ্ঞদের সমর্থন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মশা মারতে স্যাটেলাইটের ব্যবহার, বিশেষজ্ঞদের সমর্থন

গ্রাম থেকে শহর, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র; সারাবিশ্বেই চিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মশা। যুক্তরাষ্ট্রে মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক মাস আগেই সেখানকার নানা বড় শহরে ড্রোন নামিয়েছিল গুগল। এবার আরেক ধাপ এগিয়ে মশা দমনের ভার নিল খোদ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। 

নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার ল্যাবরেটরি। এদের হাতিয়ারটি ড্রোনের চেয়েও শক্তিধর। সোজা কথায় বললে, মশা মারতে কামান নয়, রীতিমতো স্যাটেলাইট দেগেছে নাসা। তবে এর পাশাপাশি ছোট ছোট অজস্র দলও তৈরি করেছে তারা। থাকছে এয়ার ট্র্যাপিংয়ের ব্যবস্থাও। যে ব্যবস্থা সবচেয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। স্যাটেলাইট ছাড়াও সেই দলের কাছে মজুত থাকবে ক্যামেরা, গ্রাফ, ম্যাপিংয়ের ব্যবস্থা, তথ্য যাচাই ও জমা করার জন্য নানা ধরনের চিপ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার প্রায় সব দেশই মশার আতঙ্ক বুকে নিয়ে বাঁচছে। প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৫০ কোটি মানুষ মশাবাহিত রোগের শিকার হন। মৃত্যু হয় প্রায় এক কোটি মানুষের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের সময়টুকুও পাওয়া যায় না। ইদানীং সে সমস্যা আরো বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হু।

কিন্তু মশা মারতে স্যাটেলাইটের ব্যবহার সম্পর্কে ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)-র তথ্য বলছে, গত কয়েক দশক ধরেই মশার হানাদারিতে ব্যতিব্যস্ত ইংল্যান্ড-আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বিশেষ করে গরমের সময় এই মশার উৎপাত বাড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু বড় শহর মশার জ্বালায় নাজেহাল। 

গত কয়েক দশক ধরেই মশার অত্যাচার ক্রমেই বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ২০০৪ সালে মশার প্রাদুর্ভাব যতটা ছিল, ২০১৬ সালে পৌঁছে সেই প্রভাব বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। নাসার এই কাজটি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়া শহরে শুরু হয় বছর পাঁচেক আগেই। আসে বিপুল সাফল্য। সেই সফলতাই এবার এই প্রজেক্টকে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেওয়ার সাহস জোগায় নাসাকে। যা এতকাল ক্যালসার্ব (ক্যালিফোর্নিয়া ভেক্টরবর্ন ডিজিজ সার্ভিলেন্স) ছিল। তা এবার ভেক্টরসার্ব হয়ে উঠবে। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়াও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে যেখানে মশা রয়েছে সেখানেই তল্লাশি চালাবে।

স্যাটেলাইট এবার মশা খুঁজবে?

ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসি এমিরেটাস সাবেক অধ্যাপক সমীরণ চক্রবর্তী বলেন, আসলে স্যাটেলাইটটি লক্ষ্য রাখবে কোথায় মশা জন্মানোর পরিবেশ-পরিস্থিতি রয়েছে। সেই তথ্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চলে যাবে টিমের কাছে। দলে থাকছেন বিভিন্ন পতঙ্গবিদ, বিজ্ঞানী, পতঙ্গবিদ্যার অধ্যাপক-সহ অনেকেই। তারা অকুস্থলে পৌঁছে মশার ডিম পাড়ার খবর, লার্ভা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা, মশার শরীরে কতটা জীবাণু, আদৌ কোনো রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা তাদের আছে কি না এই পুরো বিষয়টাই খতিয়ে দেখবে। তৈরি করবে জায়গাটির মানচিত্র, তুলে রাখবে ছবিও। যার সাহায্যে বোঝা যাবে ওই মশা কতটুকু ছড়িয়ে যেতে পারে, জায়গার অবস্থানই বা কী। 

তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার বিষয়টিতে সাহায্য করবে বিভিন্ন সংস্থার ল্যাবরেটরি। এবার সেই সব তথ্য ও পরীক্ষার ফল জমা হবে দলের কাছে থাকা চিপে। সেই ডেটাবেসই ছড়িয়ে দেওয়া হবে নাসার বিশেষ ওয়েবসাইটে। সেই ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখে মশা দমনের পদক্ষেপ নেবে সরকারি দফতরগুলো। থাকবে এয়ার ট্র্যাপিংয়ের ব্যবস্থাও। মশারা কোনো রাজনৈতিক ব্যবধান মানে না। জানে না কোন দেশের আকাশ কার। তাই ডানায় ভর করে সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যেতে পারে। প্রজাতি অনুসারে মশাদের আবার ওড়ার ক্ষমতাও পৃথক হয়। কেউ হাওয়ার সাহায্যে বেশি দূর ওড়ে, কেউ আবার নিজেরাই অনেক দূর উড়তে পারে। এয়ার ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা মশাদের গতিবিধি ও হাওয়ার গতি কোন অভিমুখে সেই দিকটাও খতিয়ে দেখা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা