kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভারতে গিয়ে বন্ধুর ফাঁদে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে গিয়ে বন্ধুর ফাঁদে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বশির মিয়া। ব্যবসার কাজে প্রায়ই কলকাতায় যান তিনি। তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং তার সর্বস্ব ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে ।

সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সেলিম রেজা ওরফে মিজানুরকে বুধবার মাঝরাতে ভারতের পাটুলি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছে এরা দুই অভিযুক্ত সালাউদ্দিন মন্ডল এবং নাসিমা বিবি। তাদের বাড়ি কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবরায়।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় আরো কয়েকজন ছিল। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের খোঁজ মিলতে পারে বলে গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা। জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা জেনেছেন, তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বশির মিয়ার পূর্ব পরিচিত। বশির এবং তার বন্ধু ইলিয়াসকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার পরিকল্পনাও তার।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই ক্যানিংয়ের বাড়িতে টাকা দিয়েছিলেন সেলিম। কিন্তু তদন্তকারী দল সেখানে গিয়ে তার খোঁজ পায়নি। পরে জানা যায়, কলকাতায় পালিয়ে গিয়ে পাটুলির কোথাও আশ্রয় নিয়েছেন অভিযুক্ত। সেখান থেকে তাকে ধরা হয়।

এদিকে ধৃতদের তিনজনের পুরনো কার্যকলাপ দেখে তাজ্জব গোয়েন্দারা। জানা গেছে তিন অভিযুক্তই আদতে বাংলাদেশি। বেআইনিভাবে ভারতে ঢুকে বসবাসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে নিয়ে তদন্তকারীরা অভিযান চালান হাবরায়। ধরা পড়ে সালাউদ্দিন এবং নাসিমা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি মোটরবাইক। যেটি অপহরণের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশে কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে বশিরের। সেই কাজে তাকে প্রায় কলকাতায় আসতে হয়। সেলিমের কাপড়ের ব্যবসা, ফলে ব্যবসার সূত্রে তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। এবার বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে বশির জানিয়েছিলেন তিনি স্ত্রীর জন্য সোনার গয়না কিনে নিয়ে যেতে চান। সেই জন্য সেলিমের সাহায্য চান তিনি। 

তদন্তকারীরা জেনেছেন স্ত্রীর জন্য সোনার গয়না কেনার পরিকল্পনা করেছেন মানে বশিরের কাছে যে মোটা অংকের টাকা থাকবে তা আন্দাজ করেছিলেন সেলিম। সে অনুসারে তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করার ছক করেছিলেন তিনি।

বশির জানতেন না, সেলিম এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছে অপরাধের জগতে। সে কারণে তিনি বিশ্বাস করে বন্ধু ইলিয়াসকে নিয়ে গয়না কিনতে যাওয়ার জন্য শিয়ালদা সংলগ্ন শপিংমলে দেখা করেন তার সঙ্গে। সেখান থেকে সেলিমের কথা মতো হাবরায় যান।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ফরিদপুরের বাসিন্দা বশির মিয়া নামে ওই ব্যবসায়ী কলকাতায় এসে শিয়ালদার এক হোটেলে ওঠেন। সঙ্গে ছিলেন ইলিয়াস নামের এক বন্ধু। পুলিশের দাবি, বশির ও ইলিয়াস শিয়ালদা স্টেশনের কাছে এক ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ব্যবসার কাজের জন্যই তারা ওই ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি এসে তাদের শিয়ালদা থেকে ট্রেনে নিয়ে যান।

তারপর গুমার একটি ঘরে আটকে রাখেন, এমনকি মুক্তিপণ দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা। পরে তাকে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা