kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ছাত্র আন্দোলনের মুখে দাবি মানছে জেএনইউ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্র আন্দোলনের মুখে দাবি মানছে জেএনইউ

যথাযথ দাবি হলে ছাত্র আন্দোলন যে এখনো অনেক সমস্যার সমাধান, তা আরেকবার দেখিয়ে দিলেন ভারতের জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের জেরে অনেকটাই নরম হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

এমনকি মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধিকর্তা আর সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, হোস্টেল ফি-সহ ছাত্রদের অন্যান্য দাবি দাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক ভাবনাচিন্তা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ প্রকল্প চালু করা হবে।

যদিও শিক্ষার্থীরা এখনই আন্দোলন থামিয়ে দিতে রাজি নন। পুরো ফি মুওকুফ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সঙ্গেও সাক্ষাত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশেষ প্রকল্পের কথা বলছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

কয়েকদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর জুড়ে 'হল্লা বোল', 'সরকারকি গুন্ডারাজ নেহি চলেগি' স্লোগান শোনা যাচ্ছে। হোস্টেল ফি একধাক্কায় প্রায় ৩০০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবাদে সমাবর্তনের দিনই বিক্ষোভের নজির গড়লেন শিক্ষার্থীরা। 

জলকামান চালিয়ে, বিক্ষোভকারীদের বাসে তুলে অন্যত্র পাঠিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেনি পুলিশ। ঘণ্টা ছয়েক অডিটোরিয়ামে আটকে থাকার পর সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হলো কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীকে। জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষার্থীদের সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভ তোলেন শিক্ষার্থীরা।

ফি বৃদ্ধি নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। জেএনইউ কর্তৃপক্ষের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ১৭০০ টাকা করে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে। আগে এই চার্জ ছিল না। তাদের সিঙ্গেল রুমে থাকার ভাড়া ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা। ডাবল রুমের ভাড়া ১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা। ছাত্র সংসদের বক্তব্য, প্রায় ৩০০ শতাংশ ফি বৃদ্ধিতে অনেক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়বেন। গরিব পরিবারের যারা মেধার জোরে এই নামজাদা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। এতে সমানাধিকারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তারা বিক্ষোভ দেখালেও কর্তৃপক্ষ কিছুই করছিল না।

এই বিরোধের মধ্যেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জেএনইউ-র বামপন্থী ছাত্র সংগঠন সমাবর্তন অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেয়। সোচ্চার প্রতিবাদের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। সোমবার সকাল ৯টা থেকে হাজারে হাজারে শিক্ষার্থী উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে এআইসিটিই অডিটোরিয়ামের দিকে মিছিল শুরু করে। 

সবার দাবি, উপাচার্যকে হোস্টেল ম্যানুয়ালের খসড়া প্রত্যাহার করতে হবে। পুলিশ অডিটোরিয়ামের গেট বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে ভিড়ও। প্রথমে ব্যারিকেড করে ছাত্রদের আটকানো হয়, পরে তাদের আটক করে বাসে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত না-হওয়ায় জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে দিল্লি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে অতিরিক্ত বাহিনী চেয়ে পাঠায়। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে। উপাচার্য অবশ্য সমাবর্তনের পরই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছেড়ে চলে যান।

অবশেষে ছাত্রদের লাগাতার আন্দোলনের কাছে সুর নরম করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা