kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

৭ লাখ টাকায় কিশোরীকে বিক্রি করেন বাবা, উদ্ধার গর্ভবতী অবস্থায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭ লাখ টাকায় কিশোরীকে বিক্রি করেন বাবা, উদ্ধার গর্ভবতী অবস্থায়

ভারতের রাজস্থানের বারমের জেলায় এক বাসিন্দা সাত লাখ টাকায় নিজের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বিক্রির পর চার মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে নাবালিকা। পরে পাঁচ মাস পর সেই কিশোরীকে উদ্ধার করে দেশটির স্থানীয় পুলিশ। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবাসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জুন মাসে বারমের থানায় এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ করেন তার ভাইয়ের মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে চমকে ওঠে পুলিশ। তদন্তের সময় জানা যায়, জুন মাসে ওই কিশোরীর বাবাকে গোপা রাম মালি নামের এক দালাল এসে বলেছিলেন তার মেয়ের জন্য একটা ভালো পাত্র দেখা হয়েছে। এ কথা শুনে মেয়েকে নিয়ে সিওয়ানা গ্রামে পাত্রপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। 

ওই কিশোরীর চাচা (বাবার ভাই) জানান, তার ভাই বাড়ি ফিরে এলে দেখা যায় তার সঙ্গে মেয়ে নেই। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আসার সময় মেয়েকে মামাবাড়িতে রেখে এসেছেন। পরে দু’দিন পরে মামাবাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেখানে নাকি জাননি তারা। তখন ওই ব্যক্তি জানান ফেরার সময় তার মেয়েকে কয়েকজন মিলে অপহরণ করেছে। এ কথা জানার পরেই পুলিশে অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর চাচা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তদন্ত করতে গিয়ে ওই কিশোরীর বাবার কথায় সন্দেহ হলে তাকে আটক করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় দালালকেও। তারপরেই জানা যায় সাত লাখ টাকায় (বাংলাদেশি মুদ্রায় আট লাখ ২৫ হাজার একশ ৭১ টাকা) বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কিশোরীকে। পরে পাঁচ মাস ধরে খোঁজ চালানোর পরে অবশেষে হায়দরাবাদে সন্ধান মেলে ওই কিশোরীর। সাঁওলা রাম দাসপা নামের এক ব্যক্তির কাছে তাকে বিক্রি করা হয়েছিল। পুলিশ সাঁওলা ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। চার জনের বিরুদ্ধেই অপহরণ, ধর্ষণের মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বারমেরের পুলিশ সুপার শরদ চৌধরী জানান, কিশোরীকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার বারমেরে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৫ নভেম্বর আদালতে তাকে তোলা হবে দোষীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য। নাবালিকা চার মাসের গর্ভবতী। এই অবস্থায় কী করা যায় তার জন্য আদালত ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা