kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ভারতীয় সাংবাদিকের বাহার উদ্দিনের স্মৃতিচারণ :

কংগ্রেসই বাবরি মসজিদে মন্দিরের প্রথম ইটটি গেঁথেছিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কংগ্রেসই বাবরি মসজিদে মন্দিরের প্রথম ইটটি গেঁথেছিল

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যা

ভারতের উত্তর প্রদেশে রাজ্যে বিজেপির রাজনীতির পরিচিত মুখ কামেশ্বর চৌপাল। বয়োবৃদ্ধ  এই ব্যক্তি দলিত পরিবারের সন্তান। উত্তর প্রদেশে বিজেপির রাজনীতিতে এটাই তাঁর একমাত্র পরিচয় নয়। রাম মন্দিরের শিল্যান্যাস অনুষ্ঠানে, বিতর্কিত জমিতে তিনিই প্রথম ইটটি পুঁতেছিলেন। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বরের ঘটনা এটা।

ওই স্মৃতি ও গৌরব তাঁর কাছে এখনও অম্লান। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। 

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, রাম ছাড়া রুটি নেই। রাম বাস্তব সত্য এবং ভারতের প্রাণস্পন্দন। আমি রামচন্দ্রের ভাবাবেগ সমাজের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছি। সমাজ বলতে বৃহৎকে বোঝাতে চাই। হিন্দু–মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান–‌সহ সব মানুষকে, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে। সত্য কথা বলতে কী, সব সরকার, এমনকি কংগ্রেসও রামমন্দিরের জন্য লড়াই করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাও–এর আমলে শিলান্যাস অনুষ্ঠান হয়েছিল। রাজীব গান্ধী রুদ্ধ মন্দিরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। আমি নরসিংহ আর রাজীবের প্রচেষ্টা লক্ষ করেছি। সমাজ ওই ভাবাবেগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। 

রামমন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার প্রাক্কালে কামেশ্বরের বয়ানের তাৎপর্য অনেক। মন্দির নিয়ে কংগ্রেসের কৌশলপ্রিয় ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। ইতিহাস কাউকে রেহাই দেয় না। কংগ্রেসেরও নিস্তার নেই। দেশভাগের গোড়ার দিকে রাম–বাবরি সমস্যার সাম্প্রদায়িক জটিলতা দেখে মন্দির মসজিদের দরজা বন্ধ করার নির্দেশ জারি করতে বাধ্য হয়েছিলেন উদ্বিগ্ন জওহরলাল নেহরু। নানা মহলের উসকানি সত্ত্বেও এই স্থিতি বজায় থাকে। 

ধর্মীয় আবেগকে আমল দেননি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীও । ইন্দিরার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সঙ্ঘ পরিবারের উদ্যোগে শুরু হয় রাম–জানকী যাত্রা। প্রধানমন্ত্রী রাজীব দুটি ভুল করলেন। শাহবানু মামলার ঐতিহাসিক রায়কে নাকচ করে 'মুসলিম উইমেন প্রোটেকশন বিল' পাস করিয়ে নিলেন সংসদে। সংখ্যার জোরে। তাঁর বিরুদ্ধে যখন মুসলিম তোষণের অভিযোগ উঠল, ঠিক তখনই পাল্টা হিন্দু তোষণ শুরু হলো। উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে রুদ্ধ মন্দির খুলে দিয়ে রাম পূজা চালু হলে বাবরি মসজিদ কমিটি পথে নামল। এই সুযোগে সাম্প্রদায়িকতার বাহক হিসেবে রামচন্দ্রকে তুলে ধরল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। পরিস্থিতি আর প্ররোচনা সামাল দিতে গিয়ে লাগাম আলগা করে দিল কংগ্রেস।

কংগ্রেসের আরেক ভুল কৌশল আর শিথিলতার ফাঁক দিয়ে রাম মন্দির আন্দোলনকে ভারত জুড়ে ছড়িয়ে দেয় কিছু সংগঠন। ভারতের নানা প্রান্ত থেকে অযোধ্যায় ঢুকতে থাকল ইট । ঝড় উঠল ফৈজাবাদে। 'মন্দির ওহি বনেগা ভাই বনেগা। জিস আদমিকে খুন মে রাম কা লহর নেহি, খুন নেহি উহ পানি হ্যায়'। নিনাদিত স্লোগানে, দম্ভের হুমকিতে কেঁপে উঠল অযোধ্যা। ৮৯ সালের ৯ নভেম্বর তুমুল উৎসাহে বিতর্কিত জমিতে মন্দিরের শিলান্যাস হয়ে গেল। সে সময় নিশ্চুপ ছিল পুলিশ আর আধা সামরিক বাহিনী। শিলান্যাস রোখার পূর্ব প্রস্তুতি নেয়নি প্রশাসন। বরং প্রশ্রয় দিয়েছে এবং শিলান্যাসের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র কৈফিয়ত পেশ করে বলেছে, বিতর্কিত জমিতে ইট পোঁতেননি রামভক্তরা। ঠিক সেদিনই খবর ফাঁস করে সংবাদ মাধ্যম আজকাল–এর তখনকার এই প্রতিনিধি সবার আগে জানিয়ে দেন, বিতর্কিত জমিতেই শিলান্যাস হয়েছে। বিবিসি–‌র কিংবদন্তি মার্ক টুলি ছড়িয়ে দিলেন একই খবর। কংগ্রেস খবরটি যথারীতি অস্বীকার করে যায়। বিজেপিও ফায়দা তুলতে থাকে। পরের ঘটনাপ্রবাহ সবার জানা। 

রথযাত্রায় বেরিয়ে পড়লেন লালকৃষ্ণ আদভানি। বাড়ল উসকানি। ৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, কেন্দ্র-রাজ্যের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ইন্দো–শারকি স্থাপত্যের শেষ নিদর্শন ভগ্নপ্রায় বাবরি মসজিদকে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে তোলে সমাজের একাংশের উগ্রতা। উগ্রতার বিস্তার দেখেও সতর্ক হয়নি কংগ্রেস। বরং প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দিয়েছে। শিলান্যাস অনুষ্ঠানের প্রথম ইট পোঁতার নায়ক রামেশ্বর যা বলেছেন, তা পুরোপুরি ভুল নয় (কংগ্রেসও মন্দির গড়ার লড়াই করেছে)। তাঁর  বিবৃতির ব্যাখ্যা, অপব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু আংশিক সত্যতা অস্বীকার করা অসঙ্গত ও অনৈতিহাসিক।‌‌‌‌‌

সূত্র : আজকাল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা