kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিরিয়ার বিভীষিকাময় জীবনের ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন ডাক্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিরিয়ার বিভীষিকাময় জীবনের ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন ডাক্তার

মার্কিন নাগরিক ডেভ ইউবাঙ্ক। পেশায় চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় রয়েছেন। আহতদের সেবা দিচ্ছে তার স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের দল ‘ফ্রি বার্মা রেঞ্জার্স।’ কাজ করছেন সেখানকার আহত মানুষদের কল্যাণে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার বিভীষিকাময় জীবনের ভয়ংকর বর্ণনা দেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সিরিয়ায় বাঁধ ভাঙা জলের মতো ঢুকছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। প্রবল লড়াই চলছে দু’দেশের সীমান্ত লাগোয়া তেল তামর শহর দখলের জন্য। সদ্য সেখান থেকে সরে এসছে মার্কিন সেনারা। ফলে তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে একাই লড়াই করতে হচ্ছে ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ বা কুর্দি বাহিনীকে। শহরে ঢোকার বেশ কয়েকটি রাস্তা দখলে নিয়েছে তুরস্ক। ফলে আহত নাগরিকদের বের করে আনায় সমস্যা হচ্ছিল। এদিকে, কুর্দিদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ওই শহরে পৌঁছে গিয়েছে সিরিয়ার সরকারি সেনা। 

আপাতত প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদের নির্দেশে কুর্দি মিলিশিয়াদের সঙ্গে মিলে তুর্কি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে তারা। সব মিলিয়ে সিরিয়া যেন ওঠেছে মৃত্যুপুরী। তবে সেখান থেকে আহত নাগরিকদের বের করে আনার অনুমতি দিয়েছে তুরস্ক ও কুর্দি উভয়পক্ষই।

খানিকটা শিউরে উঠেই ডেভ ইউবাঙ্ক জানান, ওই শহরেই এক আহত কুর্দি কিশোরীর চিকিৎসা করছিলেন তিনি। তার হাতে গুলি লেগেছিল। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পচন ধরে গিয়েছিল। তার কাছে গেলেই পচা মাংসের গন্ধে গা গুলিয়ে উঠছিল। উন্নত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু হতে পারে জেনেও পরিবারকে ছেড়ে কিছুতেই যেতে চাইছিল না ওই কিশোরী। 

সাক্ষাৎকারে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই ডেভ বলেন, সিরিয়া থেকে সরে গিয়েছে মার্কিন সেনারা। তারা ইরাক চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে হয়ত বা আমেরিকা ফিরে যাবে। কিন্তু মার্কিন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, বন্ধু কুর্দিদের সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। তুরস্কের মুখে তাদের এক ফেলে পালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরই কুর্দিদের একা ফেলে চলে যায় মার্কিন সেনারা। সব মিলিয়ে, সিরিয়ায় চলা বহুমুখী লড়াইয়ের মাশুল দিতে হচ্ছে নিরীহ নাগরিকদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা