kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আল-আকসা মসজিদে ফের উগ্র ইহুদিদের হানা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আল-আকসা মসজিদে ফের উগ্র ইহুদিদের হানা

ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে আবারো জোর করে প্রবেশ করেছে চার শতাধিক ইহুদি। আজ রবিবার সকালে দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের সহযোগিতায় শত শত উগ্র ইহুদি ওই মসজিদে ঢুকে পড়ে।

ইহুদিবাদীদের এই পদক্ষেপকে মসজিদের প্রকাশ্য অবমাননা বলে ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি নেতারা।

ফিলিস্তিনের তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, কয়েকটি উগ্র ইহুদিবাদী গোষ্ঠী তাদের উৎসবের অজুহাত দেখিয়ে মসজিদুল আকসায় প্রবেশের জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানায়। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চার শতাধিক দখলদার ইহুদিবাদী মসজিদের অবমাননা করে।

এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, আল-আকসা মসজিদকে ভাগ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে ফিলিস্তিনিরা এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেবে না। মসজিদুল আকসার কোনো ক্ষতি করতে দেওয়া হবে না।

তিনি দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আল-আকসা মসজিদকে ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় পবিত্র স্থান বলে গণ্য করেন। মুসলিমদের প্রথম কেবলা ছিলো আল-আকসা মসজিদ।

গত কয়েকদিন আগেও ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কত’ উদযাপনের সময় নজিরবিহীনভাবে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করেছে শত শত ইহুদি। এর আগে সুক্কত উৎসব উদযাপনের সময় আল-আকসা মসজিদে ইহুদিরা প্রবেশ করেনি। সম্প্রতি ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী ইহুদিদের জন্য আল-আকসা মসজিদ দখলের ঘোষণা দেয়ার পর এই ঘটনা ঘটেছে।

 গত সপ্তাহের রবিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী ইহুদিদের সুক্কত  উৎসব শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইসরায়েলি পুলিশের সহায়তায় পাঁচ শতাধিকের বেশি ইহুদি আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। এছাড়া, গত বুধবার প্রায় নয় শতাধিকের বেশি ইহুদি আল-আকসায় প্রবেশ করেছিল।

গত ১২ অক্টোবর ইসরায়েলের এক মন্ত্রী আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি ইসরায়েলের এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, এটা শীঘ্রই স্রষ্টার ইচ্ছায় ঘটবে। জেরুজালেমের পরিস্থিতি স্থানটির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌম ক্ষমতা অর্জনের দিকে যাচ্ছে। আমরা যখন আমাদের লক্ষ্যে (ইহুদিদের জন্য আল-আকসার দরজা খোলা) পৌঁছাব, তখন টেম্পল মাউন্টে প্রবেশ করে তারা তাদের প্রার্থনা করতে পারবে। আমি আশা করছি, এটি শীঘ্রই ঘটবে।’

চলতি বছর জুন মাসে আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের সহায়তায় শত শত ইহুদি প্রবেশ করে। তখন আল-আকসা মসজিদের অভ্যন্তরে থাকা মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের অভ্যন্তরে হামলা চালায়। 

আল-আকসা মসজিদ মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত। মসজিদুল আকসা অর্থ ‘দূরবর্তী মসজিদ’। 

জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। মিরাজের রাতে মুহাম্মদ (সা.) বোরাকে চড়ে মক্কা থেকে এখানে এসেছিলেন মর্মে পবিত্র আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে। এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা