kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মরছে রোগী, সেলফোনে মগ্ন নার্স!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:২৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মরছে রোগী, সেলফোনে মগ্ন নার্স!

প্রতীকী ছবি

রোগীর শ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। সে সময় নার্সকে অক্সিজেন মাস্ক দিতে অনুরোধ করেন স্বজনরা। কিন্ত নার্স সেলফোনে এতই মগ্ন ছিলেন যে মাস্ক দিতে দেরি করেন। নার্সের এই গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার এমনটাই ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। 

চিকিৎসক ও নার্সের গাফিলতিতে ওই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আখলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে জনতা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে কাদারোডের বাসিন্দা মমতা ঘোষ (৪৪)-কে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তিনি ভালোই ছিলেন। শনিবার সকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। রোগীকে অক্সিজেন মাস্ক দেওয়ার জন্য পরিবারের লোকেরা ফিমেল ওয়ার্ডের এক নার্সকে অনুরোধ করেন। 

অভিযোগ, ওই নার্স রোগীকে মাস্ক না দিয়ে মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিলেন। 

মমতা ঘোষের মেয়ে প্রিয়া বলেন, ওয়ার্ডে এক নার্সকে অক্সিজেন মাস্ক দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তিনি আমার মায়ের কাছে আসেননি, মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আরও একবার তাঁকে অক্সিজেন মাস্ক দেওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর মা নিস্তেজ হয়ে যান। ফের গিয়ে বলার পর ওই নার্স অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে আসেন। তখন পরীক্ষা করে তিনি জানিয়ে দেন, আমার মা মারা গেছেন। সঠিক সময়ে যদি অক্সিজেন দেওয়া হতো তাহলে হয়তো মায়ের মৃত্যু হতো না।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ মারা যান মমতা। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিজনেরা। নার্সের বিরুদ্ধে হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তারা। পরিজনেরা প্রশ্ন তোলেন, রোগীকে ছেড়ে কীভাবে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে পারেন একজন নার্স। ঘটনার পর অভিযুক্ত নার্স হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। 

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ইন্দ্রজিৎ মাঝি বলেন, নার্সের গাফিলতি ছিল কি না খতিয়ে দেখা হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত নার্সের নাম জানাতে চায়নি। 

মৃতের প্রতিবেশী রবি প্রামাণিক বলেন, নার্সের উচিত রোগীর দিকে মনোযোগ দেওয়া, মোবাইল ফোনে নয়। তার গাফিলতিতে মমতা মারা গেছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা