kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঙালি নিজের ভালো দেখতে পারে না : বাংলাদেশি বন্ধুকে উদ্ধৃত করে কবীর সুমন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঙালি নিজের ভালো দেখতে পারে না : বাংলাদেশি বন্ধুকে উদ্ধৃত করে কবীর সুমন

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই অভিজিৎ ব্যানার্জিকে নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। কখনো তার নোবেলজয়ী স্ত্রী এস্থারকে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে, তো কখনো আবার তিনি ভারতীয় কি না, সেটা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

প্রথম পক্ষের স্ত্রী তুলির সঙ্গে অভিজিতের সম্পর্ক নিয়েও কদর্য আক্রমণ করতে ছাড়েননি নেটিজেনদের একাংশ। নোবেলজয়ী এই বাঙালিকে ঘিরে হওয়া অপপ্রচার নিয়ে সরব হলেন বাংলার বিদ্বজ্জনদের একাংশ। এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন কবীর সুমন, অপর্ণা সেন, শঙ্খ ঘোষ এবং সুগত মারজিৎ।

কবীর সুমন বলেন, হঠাৎ করে দেখছি কিছু দামড়া দামড়া লোক যেন খাপ পঞ্চায়েত বসিয়েছে। আমার প্রশ্ন, তোরা কে? তো একজন নোবেল লরিয়েটকেও তোদের স্তরে নামাতে চাস? ছোটলোক কোথাকার। আরেকটা জিনিস। কলকাতাই একমাত্র শহর যেখানে বাস আর অটোর পেছনে দুটো উক্তি দেখা যায়। এক, ‘দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতো ফুলবি।’ দ্বিতীয়, ‘হিংসে কোরো না, চেষ্টা করো, তোমারও হবে।’

তিনি আরো বলেন, বলতে বাধ্য হচ্ছি, বাঙালি কাঁকড়া বলেই এই ধরনের উক্তি লিখে আর দেখে আনন্দ পায়। শেষে বলি, বাঙালির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, বাঙালির নিজের গর্ব করার কিছু নেই। এবং এ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ কথাটা বলেছেন আমার এক বাংলাদেশি বন্ধু ও সাহিত্যবিদ, ফারহাদ খান। তার কথায়, বাকি সবাই পরশ্রীকাতর হয়, বাঙালি হলো আত্মশ্রীকাতর। তারা নিজের ভালো দেখতে পারে না। গন্ডমূর্খ আর গাঁড়ল এই কাঁকড়ার দলকে একটাই কথা বলব- মর তোরা।

 অপর্ণা সেন বলেন, যারা অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুৎসিত ভঙ্গিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করছেন, তারা কি জানেন অভিজিতের অ্যাচিভমেন্টের ব্যাপ্তি? অভিজিৎ নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। কী পুরস্কার? নোবেল পুরস্কার! এটা পাড়ার দোকানে কিনতে পাওয়া যায় না। 

তিনি আরো বলেন, এসব কারা করছে, কেন করছে, সেটা তো জলের মতো পরিষ্কার। এগুলো হচ্ছে ‘পেইড ট্রোলিং’। আমি নিজেও এর শিকার হয়েছি। আমি শুধু এটাই বলব, অভিজিতের এতে কিচ্ছু এসে যাবে না। ওর এই অবিশ্বাস্য অ্যাচিভমেন্টের সামনে দিস পিপল ডোন্ট ম্যাটার।

সুগত মারজিৎ বলেন, অভিজিতের বাবা, অর্থনীতির দিকপাল অধ্যাপক দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন আমার ভীষণ প্রিয় মাস্টারমশাই। অভিজিৎকে আমি চিনি অনেক আগে থেকে। কিন্তু কাছ থেকে চিনি বলে প্রতিবাদ করছি না। চেনাজানা না থাকলেও একই কথা বলতাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজিতের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে যা হচ্ছে তা অত্যন্ত অনুচিত একটা চর্চা। আমি নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকতে পছন্দ করি না। 

তিনি আরো বলেন, যা শুনেছি সবই অন্যদের থেকে, তবে সেটা মিথ্যা নয়। এসব আলোচনা যত চলবে, বাঙালি হিসেবে আমাদের খামতি, অসাবধানতা তত প্রতিফলিত হবে। যে কাজের জন্য অভিজিৎ নোবেল পেয়েছে, সেটাই প্রধান আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। তার বদলে কেন যে ব্যক্তিগত জীবনের দিকে মানুষের আগ্রহ মোড় নিল, কে জানে! যারা এই কুৎসিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখা উচিত। নোবেল পাওয়ার পরেও যদি এমন আক্রমণের মুখে পড়তে হয়, তাহলে সত্যিই কিছু বলার থাকে না।

শঙ্খ ঘোষ বলেন, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় যে নোবেল পেয়েছেন, এ খবর খুব আনন্দের। তার সম্বন্ধে যে সমালোচনা হচ্ছে, এটাই খুব আশ্চর্যের। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে আমার জানা নেই। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা