kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিজিবির 'গুলির' পাল্টা জবাব দেয়নি ভারত : বিএসএফ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিজিবির 'গুলির' পাল্টা জবাব দেয়নি ভারত : বিএসএফ

নিহত বিএসএফ জওয়ানের দেহ নিয়ে আসছেন বিএফএফ সেনারা। ছবিসূত্র- বিএসএফ

সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বিএসএফ জওয়ান বিজয়ভান সিং। বিএসএফ-এর দাবি, সীমান্তে চলা ভারত-বাংলাদেশ 'ফ্ল্যাগ মিটিং'-এর সময়ই তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। কিন্তু বিজিবির সেই গুলির পাল্টা জবাবে একটা গুলিও চালায়নি ভারত, নেয়নি প্রতিশোধও। জওয়ান বিজয়ভান সিংয়ের মৃত্যুর পর এমনটাই জানানো হলো বিএসএফের পক্ষ থেকে। 

বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গোলাগুলিকে কেন্দ্র করেই সীমান্তে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। 

বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন ভারতীয় মৎস্যজীবী। তাঁদের মধ্যে দু'জন ফিরে এসে কাকমারিচরের বিএসএফের শিবিরে যোগাযোগ করে জানান যে, বিজিবি তাঁদের জোর করে ধরে নিয়ে যায়। বিজিবি এই দুই মৎস্যজীবীকে মুক্তি দিয়ে 'ফ্ল্যাগ মিটিং'-এর জন্য আহ্বান জানায় বিএসএফকে। 

বিএসএফ সূত্রে খবর, ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সীমান্ত পরবর্তী ৩০০ থেকে ৪০০ মিটারের মধ্যে। এরপরই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

বিএসএফ জানায়, তাঁদের পাঁচজন জওয়ান ফ্ল্যাগ মিটিং-এ অংশ নিতে যাওয়ার সময় বিজিবি সেনারা তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু করে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন বিএসএফ-এর হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং (৫০)।

প্রসঙ্গত, বাকি দুই মৎস্যজীবী ভারতে ফিরে আসতে পারলেও তৃতীয়জন এখনও ফেরেননি। 

বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই মৎসজীবী বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। 

এদিকে, বিজিবি সদস্যরা দাবি করেছেন, বিএসএফের টহলদারি দলটি মৎসজীবীকে উদ্ধার করতেই অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং তাঁরা যখন পালানোর চেষ্টা করে সেই সময়ই 'আত্মরক্ষার স্বার্থেই' গুলি চালানো শুরু করা হয়।


তবে বিজিবির এই অভিযোগকে মানতে নারাজ বিএসএফের ইনস্পেক্টর জেনারেল ওয়াই বি খুরানা। 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, বিএসএফ-র পক্ষ থেকে কোনও গুলি চালানো হয়নি। বরং বিজিবি গুলি চালানোর পরেও আমরা কোনও প্রতিশোধও নেয়নি।

বিএসএফের ইনস্পেক্টর জেনারেল বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রক্রিয়া (এসওপি) আছে। সেই নিয়মানুসারে আমরা কমলা রঙের পতাকা নিয়ে যাচ্ছিলাম ওই বৈঠকের জন্য। কাউকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জোর করতে নয়। বিজিবির ছবিটিতেও কমলা পতাকাটি দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। তাঁরা এখন এটা বলতে পারবে না যে আমরা ফ্ল্যাগ মিটিং নয় অন্য কিছুর জন্য যাচ্ছিলাম।

বিএসএফ-এর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, যা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় … আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা