kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামের কারাগারে সাধারণ মানুষকে বিদেশি বানিয়ে খুন! মৃত ২৬

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামের কারাগারে সাধারণ মানুষকে বিদেশি বানিয়ে খুন! মৃত ২৬

আসামের নির্মাণাধীন বিদেশি বন্দিশালা

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ভারত আসাম রাজ্যে কারাগারে সাধারণ মানুষকে বিদেশি বানিয়ে খুন করা হচ্ছে। আসামের বিদেশি বন্দিশালায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ২৪ জনই মারা গেছেন রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর। মৃতদের মধ্যে ১২ জন হিন্দু বাঙালি। সবক্ষেত্রেই বলা হয়েছে মৃত্যুর কারণ অসুস্থতা। 

মানবাধিকার কর্মী সাধন পুরকায়স্থ বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা উচিত। নিহতদের মধ্যে ৪৫ দিনের শিশু থেকে শুরু করে ৮৬ বছরের বৃদ্ধও রয়েছেন। তাদের বন্দি করা হয়েছিল এনআরসি তালিকা প্রকাশের আগে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃত্যুর মিছিল এবার দীর্ঘতর হবে।

জানা গেছে, বন্দিশালায় মৃতদের একজন নজরুল ইসলাম। বয়স মাত্র ৪৫ দিন। বাড়ি ধুবড়ি জেলার রৌয়ায়। মা সাহিদা বিবির সঙ্গে সেও হয়ে যায় 
'বিদেশি'। এরকমই বন্দিশালায় মৃতদের তালিকায় আছেন সুন্দরমণি রায় (৭৫), নগেন দাস, সুব্রত দে (৩৭), খোকন মণ্ডল (৬৮), শশীমোহন সরকার (৮৫), অমৃত দাস (৬৭), বাসুদেব বিশ্বাস (৫৫), পুনা মুন্ডা (৬৫), ভুলু সদাকর (৬৮), প্রভা রায় (৭০), সন্তোষ বিশ্বাস (৭৫)–‌রা। সর্বশেষ সংযোজন দুলালচন্দ্র পাল (৬৪)। ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে আসামে বিজেপি–‌র গত তিন বছরের শাসনকালে। 

বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে 'কারারক্ষীদের জুলুম', 'খুন' ও '‌রহস্য'–‌এর অভিযোগ উঠেছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল '‌বিদেশি' তকমা দিয়ে দেওয়ার পর এঁদের  রাজ্যের ৬টি জেলখানার ভিতর অবস্থিত বিদেশি বন্দিশালায় নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর প্রতিটি ক্ষেত্রেই মরদেহ তুলে দেওয়া হয় 'ভারতীয়' পরিবারের হাতে!‌ দুলালবাবুর পরিবারের মতো কেউ কেউ তাই মরদেহ নিতে অস্বীকারও করেন।

রাজ্যের ৬টি ডিটেনশন ক্যাম্পের মধ্যে বন্দিমৃত্যুর নিরিখে শীর্ষে তেজপুর ও গোয়ালপাড়া। দুটি বন্দিশালাতেই ১০ জন করে আবাসিকের মৃত্যু হয়েছে। শিলচর বন্দিশালায় মৃতের সংখ্যা ৩। ২ জন কোকরাঝাড়ে এবং ১ জন জোরহাট বন্দিশালায় মারা গিয়েছেন। ডিব্রুগড় বন্দিশালায় অবশ্য মৃত্যুর কোনও খবর নেই। 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, জেলখানাগুলির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে ধৃত অসমিয়া বন্দিদের ওপর নিপীড়ন অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

সাধন পুরকায়স্থর মতে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালগুলি তৈরিই হয়েছে মানুষকে বিদেশি বানাবার জন্য। আর বিদেশি বলে মানুষকে জেলে পুরে খুন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। হিন্দু বা মুসলিম বলে কোনও কথা নেই, ষড়যন্ত্র চলছে বাঙালিদের শেষ করার।‌‌‌

সূত্র : আজকাল 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা