kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তুরস্কের হামলার মুখে একাট্টা চিরশত্রু কুর্দি জাতিগোষ্ঠী ও আসাদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তুরস্কের হামলার মুখে একাট্টা চিরশত্রু কুর্দি জাতিগোষ্ঠী ও আসাদ

সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্র সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করে সম্প্রতি। আচমকা সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শত্রু-মিত্র অনেককেই অবাক করে দিয়েছিলেন। এই ঘোষণার পরই রবিবার ট্যাঙ্কসহ তুরস্কের সৈন্য বহরের সিরিয়া সীমান্তের দিকে রওনা হওয়ার খবর জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে ওই দিন থেকেই হামলা শুরু হয়নি। হামলা শুরু হয় বুধবার থেকে। পদাতিক বাহিনীর হামলার সুবিধার জন্য প্রথমে কুর্দিনিয়ন্ত্রিত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বিমান থেকে বোমাহামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দার ঝড় উঠে। কিন্তু থেমে যায়নি তুরস্ক। 

সিরিয়ার উত্তরে তুরস্কের সামরিক অভিযান কুর্দিদের নেতৃত্বে এসডিএফ বাহিনীর অবস্থা আরো কঠিন করে তুলেছে। এই কারণে তারা এখন পুরানো শত্রু আসাদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ঘোষণা করলো। এর ফলে আসাদের সেনাবাহিনী এবার উত্তরে তুরস্ক সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। সে ক্ষেত্রে সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সরাসরি সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার কুর্দি বিদ্রোহী ও আসাদ প্রশাসনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই অ্যামেরিকা সিরিয়া থেকে প্রায় সব সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তুরস্কের মধ্যে ক্ষমতার সমীকরণ প্রায় আমূল বদলে গেল। সেইসঙ্গে সিরিয়ায় সক্রিয় বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব-প্রতিপত্তির মাত্রাও নতুন করে স্থির হচ্ছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও ইরান আসাদ সরকারের মাধ্যমে সিরিয়ার ওপর আরো প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে।

তুরস্ক তার মিত্র দেশ রাশিয়া ও ইরানের মদতপুষ্ট আসাদ প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি কোনদিকে এগোবে, তা বলা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সতর্কতাবাণী সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান সীমান্তের দুই প্রান্তে কুর্দিদের দমন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় কার্যত একঘরে হয়ে পড়লে তুরস্কের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা সম্ভব, এরদোগানকে তার জবাবদিহি করতে হবে।

তুরস্ক চায় ‘পিস স্প্রিং' অভিযানের আওতায় সিরিয়ার মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এক ‘নিরাপত্তা বলয়' সৃষ্টি করতে। কিন্তু অভিযানের শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে। এতে তুরস্কের ওপর চাপ বাড়ছে। মানুষ দলে দলে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে ইউরোপেও আবার শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্কের কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ন্যাটো সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও তুরস্কের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পক্ষে যথেষ্ট অস্বস্তিকর। পরিস্থিতি যাতে আরো সংকটপূর্ণ না হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যে কূটনৈতিক স্তরেও তুরস্কের ওপর চাপ বাড়ছে।

তুরস্কের এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে অনেক দেশই। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাইকো মাস বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইহি ডি মাইয়ো বলেছেন, এ হামলা অগ্রহণযোগ্য। চীন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। রাশিয়ার গণমাধ্যম জানাচ্ছে, পুতিন সরকার সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলছেন অন্য কথা। তিনি বলেন, যে যাই বলুক না কেন তার দেশের সেনারা সিরিয়ার কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো বন্ধ করবে না।

এদিকে চুক্তির পরই সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মানবিজ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে সিরিয়ার সরকারি সেনারা। শহরটিতে বর্তমানে কুর্দি গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটি যাতে তুরস্কের সেনাদের হাতে না পড়ে সে জন্য সিরিয়ার সেনারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। মানবিজ শহরে সিরিয়ার সরকারি সেনা মোতায়েনের অর্থ হচ্ছে সেখানে তুরস্কের সামরিক অভিযান মোকাবিলা করবে তারা। গত কয়েকদিন ধরে তুরস্কের সেনারা এবং ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা এফএসএ কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে।

এই ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানায়, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বেসামরিক নাগরিক এখন ভাসমান অবস্থায় রয়েছেন এবং এই সংখ্যা বাড়তে পারে। ওই অঞ্চলে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

সূত্র: ডিডব্লিও, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা