kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘খালেদার হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে, যে কোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘খালেদার হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে, যে কোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের মারাত্মক আবনতি হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে। হাত-পায়ের আঙুল ফুলে গেছে।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারেন না। নিজের খাবার নিজে খেতে পারেন না। তাঁর পোশাকও আরেকজনের পরিয়ে দিতে হয়। এ অবস্থায় তিনি পিজি হাসপাতালের আট বাই দশ ফুটের ছোট্ট কক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আজ বড় বিষণ্নতার সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় ৬১৩ দিন যাবত দেশনেত্রীকে বন্দি করে রেখেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কারাগারের অস্বাস্থ্যকর কক্ষে অমানবিক পরিবেশের মধ্যে দেশনেত্রীকে বন্দি রাখা হয়েছে। পঁচাত্তর বছর বয়সী নেত্রীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বারবার ইনস্যুলিন পরিবর্তন এবং ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পরেও কোনও অবস্থাতেই তাঁর সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোনও কোনও সময় এটি ২৩ মিলিমোল পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে খাবারের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়াতে শরীরের ওজনও অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বারবার দাবি করা সত্ত্বেও দেশনেত্রীকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বিশিষ্ট দেশের কোনও বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। তাঁর জরুরিভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা দরকার। ব্যথার কারণে রাত্রে তাঁর ঘুম হচ্ছে না এবং সারাক্ষণ তিনি অস্থির থাকছেন। আর্থ্রাইটিস ও ফ্রোজেন শোল্ডার সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যের আরও গুরুতর অবনতি ঘটছে। ঘাড়-মাথা সোজা রাখতে পারছেন না। কয়েক বছর আগে অপারেশন করা চোখ এবং হাঁটুর ব্যাথা ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে অসহ্য ব্যথায় কাতরাচ্ছেন ‘গণতন্ত্রের মা’।’

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী দেশনেত্রীর জীবনের পরিণতি নিয়ে অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। সরকার অমানবিক এবং বেআইনি কাজে এতো অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিপদজনক অসুস্থতাও ভ্রুক্ষেপ করছে না। সরকারের অমানবিক আচরণ প্রমাণ করে দেশনেত্রীকে প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করছে তারা।

‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ও দেশ বিক্রি করার জন্য আইন আদালতকে কব্জা করে দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানি থেকে মেধাবী তরুণ আবরার ফাহাদকে হত্যা ও বেগম জিয়ার বন্দিত্ব একই সুতায় গাঁথা। বেগম জিয়ার সুচিকৎসা হচ্ছে না। দেশনেত্রীর প্রাণনাশ করার গভীর নীলনকশা বাস্তবায়নে ব্যস্ত অবৈধ সরকার জামিনে বাধা দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বিএসএমএমইউ’র পরিচালক সাহেবকে দিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলানো হচ্ছে -‘খালেদা জিয়া ভালো আছেন, তার অবস্থার কোনও অবনতি হয়নি।’ কতটা অমানবিক হলে এতো বড় মনগড়া কথা তারা বলতে পারেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জরুরিভিত্তিতে বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে, যে কোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আমরা আজই দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, ড. মামুন আহমেদ, সহ-দফতর সম্পাদ মুনির হোসেন ও তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা