kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রেমিকের কথায় শিক্ষিকা মাকে খুন, দুই মেয়েকে গণধোলাই প্রতিবেশীদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রেমিকের কথায় শিক্ষিকা মাকে খুন, দুই মেয়েকে গণধোলাই প্রতিবেশীদের

শিক্ষিকা মাকে খুন করল মেয়ে। এ কাজে বড় মেয়ে তার প্রেমিকের পরামর্শ ও সহায়তা নিলো। আজ শনিবার সকালে এমনই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জের গোয়ালপাড়ার পাঁচপুকুর এলাকায়। খুনের পর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে বিশাল সেই পুকুর থেকে মায়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। দুই মেয়েকে বেধড়ক মারধর করেন তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে  তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। স্থানীয়দের হাত থেকে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে। পুলিশ দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহতের নাম কল্পনা দে সরকার রায়, বয়স ৫৩। রায়গঞ্জের দেবীনগর দেবপুরী এলাকার বাসিন্দা। পূর্ব কলেজপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। তেরো বছর আগেই মারা গেছে তার স্বামী রঞ্জিত রায়। এর পর থেকে দুই মেয়েকে নিয়েই জীবন কাটাচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষিকা। আজ সকালে বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে কল্পনার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। 

লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তার বড় মেয়ে রায়গঞ্জের একটি কলেজের স্নাতকের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বছর দেড়েক আগে স্থানীয় একটি ছেলের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিয়ে করার জন্য চাপ তৈরি করে তার প্রেমিক। তবে মেয়ের প্রেমিককে পছন্দ না হওয়ায় বিয়েতে বাধা দেন ওই প্রধান শিক্ষিকা। তাতেই মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরি হয় মেয়ের। অভিযোগ, তার বড় মেয়ের বন্ধুরা প্রায়শই বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। তাতেও আপত্তি ছিল মায়ের।

এই মনোমালিন্যের জেরে শুক্রবার রাতে প্রেমিকের পরামর্শে সে শিল দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করে মাকে। এরপর বস্তার মধ্যে দেহ ঢুকিয়ে বাইকে চড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বড় মেয়ের প্রেমিক। বস্তা থেকে বের করে দেহ পুকুরে ফেলে দেয়। শনিবার সকালে প্রধান শিক্ষিকার দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার সঙ্গে তার ছোট মেয়ের আদৌ কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম অধিকারী সকালে নিহতের বাড়িতে যান। 

পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে জেরা করা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করা হবে তাদের।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা