kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আবরার হত্যার খবর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আবরার হত্যার খবর

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরেও উঠে এসেছে সেই সংবাদ।

বার্তা  সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করায় এ হত্যাকাণ্ড। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ চলছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন এবং শিক্ষকরাও যোগ দিয়েছেন সেই বিক্ষোভে।

এএফপির ওই প্রতিবেদনে ঢাকার উপপুলিশ কমিশনার মুন্তাসিরুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের হাজতে নেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলেঅতে উঠে এসেছে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করেছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকজন সদস্য হত্যা, সহিংসতা ও লুটতরাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আবরার ফাহাদ প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

আবরারের বন্ধুর বরাত দিয়ে আরো বলা হয়, আবরার ফাহাদকে একটি কক্ষে আটকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় ভারত ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়ায় তিনি শিবিরের সঙ্গে যুক্ত কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগের কর্মীরা বুয়েটের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন।

আবরারের এক সহপাঠী বলেন, কয়েকটি ফেসবুক পোস্টের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কাণ্ডজ্ঞানহীন। ছাত্রলীগের গুণ্ডারা তাকে হত্যা করেছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

আবরার ফাহাদের বাবা বারাকাত উল্লাহ বলেন, আমার সন্তান নিরপরাধ ছিল। তিনি তার জোরালো মত দিয়েছেন, যেজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকায় আরেক শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করার অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে? সংগঠনটি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাদের এসব তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

জানা গেছে, ভয়েস অব আমেরিকাসহ আরো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন এসেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা