kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

পূজামণ্ডপে আজান : ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ, এফআইআর দায়ের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পূজামণ্ডপে আজান : ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ, এফআইআর দায়ের

পশ্চিমবঙ্গের পূজামণ্ডপ

দুর্গাপূজায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের চেতনা জাগ্রত করতে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি পূজামণ্ডপে অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছিল উদ্যোক্তারা। এমনই বিষয় ভাবনা উপস্থাপন করেছিল বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি অধিবাসীবৃন্দ। আর সেটাই 'কাল' হলো উদ্যোক্তাদের জন্য। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন শান্তনু সিং নামের এক আইনজীবী। পূজা কমিটির সম্পাদকসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন তিনি।

শান্তনু সিং-এর অভিযোগ, পূজামণ্ডপে বাজছে আজান। এতেই হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা হয়েছে। 

ওই অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছেন উদ্যোক্তারা। 

উদ্যোক্তারাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা হয়নি। পূজার থিমের সঙ্গে যে আবহ সংগীত ব্যবহৃত হয়েছে তাতে একাধারে দুর্গাস্তোত্র, আজান ও চার্চবেল বাজানো হয়েছে। কিন্তু পূজা হয়েছে হিন্দু রীতি মেনেই। তার সঙ্গে আবহের কোনও যোগসূত্র নেই। ভুয়া হিন্দুত্ববাদের ধুয়া তুলে পূজায় বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে বেলেঘাটা উদ্যোক্তারা।

উল্লেখ্য, শিল্পী রিন্টু দাসের ভাবনায় এবার মণ্ডপে ফুটে উঠেছে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে 'আমরা এক, একা নই', এই চেতনায় জাগ্রত করার প্রয়াস নিয়েছিল এবার বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি। গোটা মণ্ডপে ঝুলছে হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক। মন্দির-মসজিদ-চার্চ-গুরুদ্বারের ছোট ছোট রেপ্লিকা দিয়ে সাজানো হয়েছে প্যান্ডেল। এর সঙ্গে আবহ সংগীতে শোনা যাচ্ছে চণ্ডীপাঠ, আজান আবার কখনও চার্চবেল। কিন্তু তাল কাটল মহানবমীতে। গত সোমবার দুপুরে থানায় উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেন ওই আইনজীবী।

আইনজীবী শান্তনু সিং জানান, মণ্ডপে আজান বাজিয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। আমি কোনও ধর্মকে অশ্রদ্ধা করছি না। কিন্তু কখনও শুনেছেন মসজিদে গীতাপাঠ হচ্ছে? বা চার্চে চণ্ডীপাঠ হচ্ছে?

তাঁর অভিযোগ, এই থিম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অধিকাংশ পূজা কমিটির সদস্য শাসকদলের ছাতার নিচে থাকা লোকজন বলেই পূজা নিয়ে ছেলেখেলা হচ্ছে। 

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পূজা কমিটির পক্ষে সুশান্ত সাহা বলেছেন, কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়নি। অভিযোগকারী আজানটাই শুনতে পেলেন, দুর্গাস্তোত্র শুনতে পাননি। আমরা শীঘ্রই সাংবাদিক সম্মেলন করে এর জবাব দেবো। 

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা