kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ফের আত্মহত্যা পশ্চিমবঙ্গে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:২২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ফের আত্মহত্যা পশ্চিমবঙ্গে

সম্প্রতি ভারতের আসামে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় তারা নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্ত জেলাগুলোতেও। ফের এনআরসি-তে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন এই রাজ্যেরে জলপাইগুড়ির এক ব্যক্তি। 

জানা গেছে, জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। শ্যামল রায় নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার বাড়ি থেকে। বেশ কয়েকদিন ধরেই পুরনো নথি জোগাড় করার জন্য তিনি প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছিলেন। কিন্তু রোজ শিবিরগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখে তিনি ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়েন। মনে হয়, নথিগুলো জোগাড় করা খুব সহজ কাজ হবে না। আর তারপর এনআরসি হলে, তিনি বাদ পড়তে পারেন, এই আশঙ্কাও গ্রাস করছিল তাকে। এর জেরে আজ সকালে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। ধূপগুড়ি থানায় এই মর্মে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই আতঙ্কে অনুঘটকের মতো কাজ করেছে বিজেপি নেতাদের ক্রমাগত হুঁশিয়ারি। তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করা হবে। যথাযথ নথি না থাকলে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে আধার কার্ডসহ একাধিক পরিচয়পত্র সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন হচ্ছে সেখানে। সকলেই চাইছেন, পূর্বপুরুষদের নথি সংগ্রহ করতে, যা এনআরসি'র সময়ে পেশ করতে পারবেন তাঁরা। কিন্তু সেখান থেকেও অনেককে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। এর জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ধূপগুড়িতে শ্যামল রায়ের মৃত্যুতে আরও দীর্ঘ হলো তালিকা।

প্রসঙ্গত, এর আগেও জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে একই আতঙ্কেই এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। বালুরঘাট, বসিরহাটেও এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লাগাতার প্রচার করা হচ্ছে, অযথা নাগরিকপঞ্জিতে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করবেন না। যে শিবির চালু হয়েছে, সেটি শুধুই পরিচয়পত্র সংশোধনের। কিন্তু তা সত্ত্বেও আতঙ্ক কমছে না। এড়ানো যাচ্ছে না মৃত্যুর ঘটনাও। তবে এর দায় পুরোপুরি রাজ্য সরকারের ওপরই চাপিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। 

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছেন, মু্খ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এনআরসি নিয়ে এত প্রচার করেই আসলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন। 

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা