kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

বাড়িতেই যৌন নির্যাতনের শিকার প্রতি ১৬ জনে ১ মার্কিন নারী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়িতেই যৌন নির্যাতনের শিকার প্রতি ১৬ জনে ১ মার্কিন নারী

বিয়ে করেছেন বলেই কি কোনো নারী তার স্বামীর ইচ্ছে মতো যৌন মিলন করতে হবে? তাদের নিজেদের কি কোনো ইচ্ছা নেই? নারীর অধিকারের প্রসঙ্গ যতো বেশি বেশি করে উচ্চারিত হয়েছে দেশে দেশে, ততই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে এই প্রশ্নগুলো। আমাদের সমাজের মানসিকতায় কোথাও এখনো এই ধারণা রয়েছে যে, বিয়ে করা মানেই সম্মতি নিয়ে যৌন সম্পর্কের আর প্রয়োজন নেই। মেয়েদের ‘না’ বলার অধিকার রয়েছে এবং ছেলেদেরও সেই ‘না’কে সম্মান জানাতে হবে এই বোধটাই তৈরি হয় না। নারীদের সঙ্গে জোর করেই তারা যৌন সম্পর্ক তৈরি করেন। এতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার নারী। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ১৬ জন নারীর মধ্যে ১ জন নারী ঘরের মধ্যেই যৌন নির্যাতনের শিকার হন।  

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএমএ) জার্নালে গত সোমবার গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়। গবেষকরা ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ১৩ হাজারেরও বেশি নারীর কাছে থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। গবেষণায় বলা হয়, অনেক নারীরাই কিশোর বয়সে কয়েক বছর বয়সী বড় কোনো পুরুষের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন মিলন করতে বাধ্য হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩০ লাখ নারী এ নির্যাতনের শিকার হন। গবেষণাপত্রটির লেখকরা জোরপূর্বক যৌন মিলনকে ধর্ষণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যৌনশিক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ শ্রয়েডার বলেন, আমার মনে হয় এই সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে। আরো অনেক নারীই এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। অন্যান্য নারীদের মতো হয়তো তারা এই বিষয়টি কারো কাছে বলতে চান না।

গবেষণায় দেখা যায়, একজন মেয়ে যখন প্রথমবার যৌন মিলন করতে যান তখনই সবচেয়ে বেশি নির্যাতানের শিকার হন। তাদের অসম্মতিতেই যৌন মিলন করতে বাধ্য করা হয়। যে নারীরা জোরপূর্বক যৌন মিলন করতে বাধ্য হয়েছেন তারা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেন। সেই সঙ্গে তারা অর্থনৈতিকভাবেও চাপ পড়েন।

গবেষণায় তুলনা করা হয়, যারা নিজের ইচ্ছায় যৌন মিলন করছেন এবং যারা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌন মিলন করেছেন তাদের মধ্যে। দেখা যায়, যারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলন করেছেন তারা অনেকই অসময়ে গর্ভবতী হয়ে যান। এর ফলে গর্ভপাত করাতে হয়। অনেকেই এন্ডোমেট্রিওসিস এবং পেলভিক প্রদাহজনিত রোগে ভুগেন। এছাড়াও ঋতুস্রাব সংক্রান্ত কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগেন। জোর করে যৌন মিলনের শিকার অনেক নারীই আবার মাদক ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা