kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বালাকোটে জঙ্গি শিবির আবারও সক্রিয়! গোয়েন্দা রিপোর্টে তোলপাড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বালাকোটে জঙ্গি শিবির আবারও সক্রিয়! গোয়েন্দা রিপোর্টে তোলপাড়

বালাকোটে জঙ্গি শিবির

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জঙ্গি শিবির নতুন করে গড়ে উঠছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে এমন ছবি এবং তথ্য এসেছে বলে জানা গেছে। 

ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, সাত মাস আগে অভিযান চালিয়ে যে জঙ্গি শিবির ভারতীয় বিমান বাহিনী গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, সেখানে ফের জইশ জঙ্গিদের তৎপরতা দেখা গেছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে যে তথ্য হাতে এসেছে তা চমকে দেওয়ার মতো। জানা গেছে, কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি, তলে তলে 'ভিন্ন' চেষ্টাও চালাচ্ছে পাকিস্তান। পুলওয়ামা হামলার পর জইশ-ই-মোহম্মদের বিরুদ্ধে 'কড়া ব্যবস্থা' নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। 

তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর পাকিস্তানের ভূমিতে জইশকে 'ছাড়' দিয়েছে ইসলামাবাদ। ফলে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওই জঙ্গি গোষ্ঠীটি। 

জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলারদের সঙ্গে বৈঠকও করেন জইশ কমান্ডার মুফতি আবদুল রউফ আসগর। কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে সামনে রেখে সীমান্তের এপারে নাশকতা চালাতে মুখিয়ে রয়েছে জইশ। তার ছক কষতে গত ৬ আগস্ট রাওয়ালপিণ্ডিতে এ নিয়ে বৈঠকও করে জইশ নেতারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর নয়, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যকেও টার্গেট করতে পারে জইশ। নাশকতা চালানোর জন্য ভারতের ঘরে ও বাইরে থেকে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত জঙ্গিদের কাজে লাগাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেজন্য কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। কাশ্মীরে নাশকতা চালানোর জন্য পাকিস্তানের ভাওয়ালপুর, পেশওয়ার ও জমরুদ এলাকায় ৫০ জন জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মনসেরা, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কোটলি ও গুলপুরেও জঙ্গিদের 'কৌশল' ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আর বালাকোটের জইশ ক্যাম্প থেকেই চালানো হচ্ছে ওই প্রশিক্ষণ শিবির। এছা়ড়াও, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চরসাদা, মর্দান-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জঙ্গি নিয়োগের ক্ষেত্রেও জোর দিয়েছে জইশ। এমনকি আফগানিস্তান সীমান্তে থাকা জঙ্গিদেরও কাশ্মীরে নিয়ে আসার ছক কষেছে জইশ। 

ভারতীয় গোয়েন্দাদের মত, কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে 'সর্বশক্তি' প্রয়োগ করতে চাইছে জইশ। মনসেরায় জঙ্গি ক্যাম্পের দায়িত্বে রয়েছে হাফিজ সাঈদের ছেলে তালহা। 

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, ভারতে ঢোকানোর জন্য পুঞ্চ ও রাজৌরি সেক্টরের ওপারে থাকা লঞ্চ প্যাডগুলিতে ইতিমধ্যে অন্তত ১০০ জঙ্গিকে জড়ো করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে হামলা চালানোই তাদের লক্ষ্য। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কাশ্মীরের সেনা ব্যারাক বা জাতীয় সড়কে সেনা কনভয়ে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। গত ১১ আগস্ট পাকিস্তানের সিয়ালকোটের জঙ্গিদের দলটিকে জইশ কমান্ডার মুফতি আসগর যে এই নির্দেশ দিয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

একইসঙ্গে সক্রিয় করে তোলা হয়েছে হিজবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকেও। গত ২৬ আগস্ট আইএসআই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে বৈঠক করে হিজবুল নেতারা। গুরেজ সেক্টর দিয়ে অনুপ্রবেশ চালিয়ে ভারতে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই গোষ্ঠীটিকে।

জইশ জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়ে এক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। কাশ্মীরে যে টেলিফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারি হয়েছে তা তুলে নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে জঙ্গিরা। তারপর তারা কাশ্মীরে ঢুকে হামলা চালাবে বলেও আশঙ্কা। 

সম্প্রতি জইশের পাক্ষিক পত্রিকা 'মদিনা মদিনা' য় উঠে এসেছে কাশ্মীর ও সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ প্রসঙ্গও। ভারতের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে জইশ। 

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সিআরপিএফ-এর কনভয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় জইশ। তারপরই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মনসেরা জেলায় অবস্থিত বালাকোটে বিমান হামলা চালিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে সাত মাসের মধ্যে ফের সেই ঘাঁটিগুলোকে সক্রিয় তুলেছে জঙ্গিরা। এতে পাকিস্তান সরকারের মদদ রয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি। 

সূত্র : আনন্দবাজার 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা