kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হননি বিজেপি নেতা চিন্ময়ানন্দ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হননি বিজেপি নেতা চিন্ময়ানন্দ!

এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপির নেতা চিন্ময়ানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপির নেতা ও সাবেক বিধায়ক চিন্ময়ানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ না দেওয়ায় ওই ছাত্রী ক্ষোভ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেটা ভয় পাচ্ছিলাম, সেটাই হলো। … এদেশে আইন বলে কিছু নেই। 

জানা গেছে, বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা মেয়েটি আইনের ছাত্রী। গত শুক্রবার চিন্ময়ানন্দকে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ১৪ দিনের জন্য গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে 'ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌন সঙ্গমের জন্য' যা 'ধর্ষণের সমতুল্য অপরাধ নয়'। এই অভিযোগে চিন্ময়ানন্দের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 

এদিকে, চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছন ওই ছাত্রী। 

ওই ছাত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জন্য চিন্ময়ানন্দ গ্রেপ্তার হয়েছেন। বারবার বলেছি তিনি আমাকে ধর্ষণ করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে সেই ধারা দেওয়া হয়নি। এটা কেমন হলো?

উত্তরপ্রদেশের তিনবারের সাংসদ চিন্ময়ানন্দ বহু আশ্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালান। তাঁর ট্রাস্ট পরিচালিত একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন ধর্ষণের মামলা করা ওই ছাত্রী। গত আগস্টে ওই ছাত্রী অভিযোগ তোলেন, ব্ল্যাকমেল করে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করেছেন চিন্ময়ানন্দ। তিনি লুকিয়ে তাঁর স্নানের ভিডিও করে রেখেছিলেন। পরে, সেই ভিডিও দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন। একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণও করেন। এমনকি, তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে চিন্ময়ানন্দ তাঁকে দিয়ে গা-হাত-পা ম‌্যাসাজও করাতেন। 

অভিযোগকারিণীর বক্তব‌্য, চিন্ময়ানন্দ নিজের কলেজে তাঁকে ভর্তি করিয়ে দিয়ে সাহায‌্য করেছিলেন। তারপর থেকেই নানা অজুহাতে নিজের আশ্রমের ঘরে ডেকে যৌন হেনস্তা করতেন। মাস কয়েক আগে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করতে যান আইনের স্নাতকোত্তরের ওই ছাত্রী। কিন্তু চিন্ময়ানন্দ প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা পুলিশ দায়ের করতে চায় নি। 

তদন্তে জানা গেছে, নির্যাতিতা গোপন ক্যামেরায় গোটা ঘটনা ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন। এ ধরনের ৩৫টি ভিডিও ক্লিপ তিনি জমা দেন তদন্তকারী দলকে। গত মাসের শেষ দিকে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন উত্তরপ্রদেশের এই তরুণী। একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি। ভিডিও ভাইরাল হতেই আলোড়ন পড়ে। কিন্তু এত কিছু করেও কোনও কাজ হয়নি বলে জানাচ্ছেন ওই ছাত্রী।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা