kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

সব ভারতীয়র ভাষা হিন্দি! প্রতিবাদ বিশিষ্ট ৫০ বাঙালির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব ভারতীয়র ভাষা হিন্দি! প্রতিবাদ বিশিষ্ট ৫০ বাঙালির

সুবোধ সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার আবেদন জানিয়েছেন, হিন্দিকে ভারতের ‘সর্বজনীন’ ভাষা করতে। একটি টুইটার পোস্টেও তিনি আবেদন জানান। তিনি লেখেন, ভারত নানা ভাষার দেশ, এবং প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরে এমন একটি সর্বজনীন ভাষার প্রয়োজন যা ভারতের পরিচিতি হয়ে উঠবে। আজ যদি এমন একটিও ভাষা থেকে থাকে, যা এক সূত্রে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তা হলো হিন্দি, যা কিনা ভারতে সবচেয়ে বেশি বলা এবং বোঝা হয়।

আর তার এই দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ৫০ বাঙালি। এছাড়াও তারা আহ্বান জানান, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা যাতে ভারতের প্রতিটি ভাষাকে সম্মান জানান। সেই সঙ্গে নিজেদের ওপর কোনো কিছু ছাপিয়ে দিলে তা প্রতিহত করারও আহ্বান জানান। তারা আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতিও প্রচার করেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, কবি সুবোধ সরকার, কবি-কলাম লেখক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, উর্মিমালা বসু, জগন্নাথ বসু এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যের পরই তার ওই বিবৃতিটি প্রচার করেন।

এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি সুবোধ সরকার। যে কোনো ভাষাকেই তিনি সম্মান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, হিন্দি ভাষাকে আমি সম্মান করি। কন্নড় মালয়ালি মারাঠি কোঙ্কনি কিংবা ককবোরোককে আমি সমানভাবে সম্মান করি। কোনো ভাষা ছোট হয় না। কোনো ভাষা বড় হয় না। মাতৃভাষা একজন মানুষের আসল রেশন কার্ড। তবে বাংলাকে মুছে ফেলার নতুন নীতির নাম এক দেশ এক ভাষা।

এখানেই শেষ নয়। অমিত শাহর ‘এক দেশ এক ভাষা’র সমালোচনা করে সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি কবিতাও পোস্ট করেন সুবোধ সরকার তিনি লেখেন,

“যাঁরা চাইছেন এক দেশ এক ভাষা
তাঁরা কী জানেন কাকে বলে দেশ?
কাকে বলে ভালবাসা?

আমার ভাইকে তোমরা মেরেছ কাশ্মীরে
মেরেছ বোনকে কন্যাকুমারিকায়
গঙ্গার জলে সবটুকু ধোয়া যায়?

নিজের ভাষায় গাইবে না আর গান?
বুঝবে সেদিন
যখন তোমার থালায় পড়বে টান।

দেখেই চলেছি জোচ্চুরী করা পাশা
আমি বলব না আমার মাতৃভাষা?”

অমিত শাহর দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছেন তামিল নাডুর রাজনৈতিক নেতা এম কে স্টালিন। তিনি বলেন, ১৯৩৭ সালের হিন্দি বিরোধী আন্দোলনের আমাদের আবারো তৈরি হতে হবে। তামিল জনগণ, শিক্ষার্থী ও তরুণদের উচিত এ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া। কারণ বিষয়টি সংস্কৃতি ও ভাষা সম্পর্কিত।

সূত্র: রিপাব্লিকওয়ার্ল্ড।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা