kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

প্রতি সপ্তাহে গত ১০ বছর ধরে সন্তানের সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতি সপ্তাহে গত ১০ বছর ধরে সন্তানের সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি

ব্রায়ান হ্যানমোর।

যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা ব্রায়ান হ্যানমোর নামের এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে প্রতি সপ্তাহে গত ১০ বছর ধরে সন্তানের সামনেই ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী। তারপর ২০১৮ সালের জানুয়রি মাসে ব্রায়ানকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবা সহকারী হিসেবে কাজ করতেন ওই নারী। তিনি বলেন, আমি অন্যকে দেখানোর জন্য কথাগুলো বলছি যে আপনি এই ধরনের ঘটনার পরো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। আপনি যদি এই ধরনের ঘটনা শিকার হন তাহলে অতিদ্রুত নিজেক রক্ষ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে ন্যায়বিচারও পেতে পারেন।

ব্রায়ান ২০০১ সালের দিকে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেন। তারপর থেকেই থাকে মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। ওই নারীকে সবসময়ই ব্রায়ান মোটা এবং অলস বলে ডাকতেন। ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমাদের প্রথম সন্তানের যখন পাঁচমাস বয়স তখন ব্রায়ান আমাকে সহবাস করতে আহ্বান জানায়। কিন্তু আমি তখন তাকে নিষেধ করি। এতে কোনো লাভ হয়নি। এরপর ব্রায়ান আমাকে প্রথমবারের মতো ধর্ষণ করে। এই ঘটনার পর থেকেই আমি লজ্জাবোধ করি। সেই সঙ্গে তাকে আমি ঘৃণা করতে শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, আমি কখনোই রক্ষা পেতাম না। একদিন ব্রায়ান আমাকে রান্নাঘরে ধর্ষণ করতে শুরু করে। এমন সময় আমার ছেলে রান্নাঘরের ভিতরে চলে আসে। তখন আমি কান্না করতেছিলাম। পরে আমার ছেলে আমার কাছে জানতে চায়, আমি কান্না করছি কেন? আমি থাকে সত্য কথা বলতে পারিনি। আমি তার কাছে মিথ্যা কথা বলি। আমার আঙ্গুল কেটে গেছে বলে তাকে ওই ঘরে পাঠিয়ে দেই।

তিনি বলেন, একদিন ব্রায়ান আমার ঘরে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমি তাকে চলে যেতে বললে সে চলে যাতে অস্বীকার করে। এরপর আমাকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে গলা টিপে ধরে। সেখানে থামেনি না ব্রায়ান। পরে আমার চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় বসার ঘর। এদিন 'ভাগ্যক্রমে, আমার দুই ছেলে (একজন ১২ বছর বয়সী আরেক জন ১৪ বছর বয়সী) চিৎকার শুনে বসার ঘরে ছুটে আসে এবং আমাকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে একজন পুলিশে ফোন করে। আমাকে উদ্ধার করে তারা ঘরের বাইরের দিক থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, তারপর পুলিশ আসলে তাকে গ্রেপ্তার করে। নির্যাতন ও শরীরে আঘাত করার অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২০১৪ সালের দিকে। ব্রায়নকে ধর্ষণের দায়েও অভিযুক্ত করা হয। ২০১৮ সালের দিকে বোর্নেমাউথ ক্রাউন কোর্ট তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রায়ানের হাত থেকে আমি মুক্ত। কিন্তু আমি আশা করেছিলাম তার আরো বেশি দিনের কারাদণ্ড হবে। আমি এখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। নিজের জীবনটা সাজাচ্ছি। 

সারা বিশ্বে এরকম অনেক নারীই ঘরের ভিতরে ধর্ষণের শিকার হন প্রতিনিয়ত। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কেউ যদি এরকম নির্যাতনের শিকার হন তাহলে কথা বলা শুরু করুন। যে আপনাকে নির্যাতন করেছে তাকে সারা বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা