kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির

বামে-অবরুদ্ধ কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা; ডানে-ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জম্মু-কাশ্মীরে যেতে পারেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলার শুনানির সময় তিনি বলেছেন, মানুষ যা বলছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি সে রকম ভয়াবহ হলে আমি শ্রীনগর যাবো। প্রয়োজনে আমি জম্মু ও কাশ্মীরের হাইকোর্টে গিয়ে সেখানে কাজকর্ম কেমন চলছে, তা দেখব।  

জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন, শিশু অধিকার কর্মী এণাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় ও অধ্যাপক শান্ত সিনহা। সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এ সংক্রান্ত মামলার শুনানী করেন অনুরাধা ভাসিনের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার। 

এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি বোবদে বলেন,সত্যি যদি কাশ্মীরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়। তাহলে এই সংক্রান্ত মামলা জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে দাখিল করতে হবে এর জবাবে বৃন্দা গ্রোভার জানান, জম্মু ও কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও সরকারি পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই সেখানকার বাসিন্দাদের পক্ষে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

এরপরই শুরু হয় শিশু অধিকার কর্মী এণাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় ও অধ্যাপক শান্ত সিনহার দায়ের করা মামলার শুনানি। তাঁরা উল্লেখ করেন, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকেই অবৈধভাবে শিশুদের আটকে রাখা হচ্ছে। ১৮ বছরের নিচে থাকা নাবালক যাদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানান, এই বিষয়ে মামলা দায়ের করতে হলে তা যেন জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে জানানো হয়। 

তবে শিশু অধিকার কর্মীদের আইনজীবী জানান, কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তাঁর মক্কেলরা হাইকোর্টে যেতে পারছেন না।

এই কথা শুনেই কাশ্মীর যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। 

তিনি বলেন, আপনি যদি বলেন যে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাহলে এটা খুব গুরুতর অভিযোগ। আপনি আমাকে বলুন যে কেউ কি হাইকোর্ট যেতে আপনাকে বাধা দিচ্ছে? যদি এটা সত্যি হয় তাহলে কেন? 

এরপরই আইনজীবীরা ডিভিশন বেঞ্চকে জানান, কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থার জন্য হাইকোর্টে যেতে পারছেন না মানুষ। তাঁদের এই কথা শুনেই জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেন প্রধান বিচারপতি। 

তিনি বলেন, মানুষ যদি জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে মামলা না করতে পারেন তাহলে সেটা খুবই গুরুতর বিষয়। তাহলে আমিই শ্রীনগর যাবো।

আবেদনকারীদের আইনজীবীরা বলেন, হাইকোর্টে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে উঠেছে। 

তখন জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টের থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। আবেদনকারীদের এক আইনজীবীকে বলেন, মানুষ যদি হাইকোর্টে না যেতে পারে, তাহলে তো পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। আমি নিজে শ্রীনগরে যাবো। তবে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো রিপোর্ট যদি অন্যরকম হয়। তাহলে তার পরিণতির জন্য তৈরি থাকবেন।

সোমবার সুপ্রিমকোর্টে কাশ্মীর সংক্রান্ত আবেদন শোনেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এক বেঞ্চ। এতে রঞ্জন গগৈই ছাড়াও ছিলেন বিচারপতি এস এ বোবদে এবং বিচারপতি এস এ নজর। এই বেঞ্চে কাশ্মীর সংক্রান্ত অনেকগুলি আবেদন জমা পড়েছিল। কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক ও দুই শিশু অধিকার কর্মীসহ মামলা করেছিলেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানিয়েছিলেন জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্সের নেতা সাজ্জাদ লোন। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহকে কোর্টে হাজির করানোর আবেদন জানিয়ে গিয়েছিলেন এমডিএমকে নেতা ভাইকোও।

সূত্র : ইটিভি ভারত, সংবাদ প্রতিদিন 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা