kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

সন্তানের কলেজভর্তিতে মহা কেলেংকারি : মার্কিন অভিনেত্রীর ১৪ দিনের জেল, লঘুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্তানের কলেজভর্তিতে মহা কেলেংকারি : মার্কিন অভিনেত্রীর ১৪ দিনের জেল, লঘুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন অভিনেত্রী হাফম্যান

কলেজে ভর্তি কেলেঙ্কারীর কারণে মার্কিন অভিনেত্রী হাফম্যানকে ১৪ দিনের কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। গত শুক্রবার তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ, তিনি তার মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে গিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। 

হাফম্যান ভর্তি পরামর্শক উইলিয়াম 'রিক' এবং তার অলাভজনক সংস্থা, কী ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফাউন্ডেশনকে ১৫০০০ ডলার দিয়েছিলেন। অভিযোগ এই অর্থের বিনিময়ে  হাফম্যানের মেয়ের স্যাট পরীক্ষায় জালিয়াতি করা হয়েছিল। 

এর আগে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ব্রিজপোর্টের এক গৃহহীন নারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারণ, ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে গিয়ে বন্ধুর ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন তিনি। এই নারী গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতেন। নিজের স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তিনি লঘু অনিয়ম করে গুরু দণ্ড পেয়েছেন। 

মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে কানেক্টিকাট পোস্ট জানিয়েছে, তানিয়া ম্যাকডোয়েল নামের এক নারী ২০১১ সালে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অ্যান্ড্রুকে উত্ত শিক্ষা প্রদানের জন্য পার্শ্ববর্তী শহর নরওয়ালকের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। নিবন্ধকরণ কাগজপত্রের জন্য তিনি তার ছেলের বেবিসিটারের ঠিকানা ব্যবহার করেন। সে সময় তিনি এবং তার ছেলে বাড়ির বাইরে  থাকতেন। ব্রিজপোর্টের একটি অ্যাপার্টমেন্টে রাত কাটাচ্ছিলেন তারা।  

এ কারণে ওই মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে জোচ্চুরির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে 'চৌর্যবৃত্তির' জন্য পাঁচ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছিল তাকে। 

সে সময় ম্যাকডোয়েল আদালতে বলেছিলেন, কে ভেবেছিল যে ছেলের জন্য সুশিক্ষা চাইলে আমাকে এই ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে? তার জন্য উন্নততর শিক্ষার খোঁজ নিয়ে আমার কোনও আফসোস নেই। 

এদিকে সমালোচকরা এই দুটি মামলার বিষয়কে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। তারা বলছেন এখানে বৈষম্যের উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।  

একইভাবে, ২০১১ সালে ওহিওতে কেলি উইলিয়ামস-বোলার নামের এক মাকে কাউন্টি কারাগারে ১০ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল।  তার মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করার ক্ষেত্রে তার বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে মিথ্যা বলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। 

কর্তৃপক্ষ উইলিয়ামস-বোলারকে ৩০ হাজার ডলার দিতে বলেছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর তিনি আবাসস্থলের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট  একটি নতুন গবেষণার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৬ সালে শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত জেলা স্কুলগুলি অশ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত স্কুলগুলির তুলনায় ২৩ বিলিয়ন ডলার বেশি সরকারী অনুদান পেয়েছে। 

ম্যাকডোয়েল এবং কেলি উইলিয়ামস-বোলারই শুধু নন, তাদের মতো অনেক পিতামাতাই তাদের বাচ্চাদের আরও উন্নত স্কুলে ভর্তি করাতে বন্ধু এবং পরিবারের ঠিকানা ব্যবহার করে থাকেন। 

তানিয়া ম্যাকডোয়েল এবং কেলি উইলিয়ামস-বোলারের ঘটনা দুটি একই ধরনের। কিন্তু তানিয়া ম্যাকডোয়েলকে যেখানে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে সেখানে কেলি উইলিয়ামস-বোলারকে মাত্র ১০ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে তানিয়া ম্যাকডোয়েল বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

সূত্র : পিপলস, সিএনএন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা