kalerkantho

কলকাতায় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ : আহত ৫০ (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় বিদ্যুতের খরচ সবচেয়ে বেশি। এমনকি মিটার রিডিংয়ের ক্ষেত্রেও কারচুপি করা হয়। এমন বেশ কিছু অভিযোগ তুলে বুধবার কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে সিইএসসি-র সদর দপ্তর ভিক্টোরিয়া হাউস অভিযানের ডাক দিয়েছিল রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চা। সেই মিছিল ঘিরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউতে আজ দুপুরে যুব মোর্চা এবং পুলিশের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিজেপির দাবি, যুব মোর্চার অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।   পুলিশের পাল্টা দাবি, তাদেরও বেশকয়েক জন কর্মী আহত হয়েছেন।

আজ সকাল ১১টা নাগাদ রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরের সামনে থেকে যুব মোর্চার ডাকে 'চলো ভিক্টোরিয়া হাউস' নামের বিক্ষোভ মিছিল  শুরু হয়। বিজেপির দাবি, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাঁদের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক রাস্তায় আটকে পড়েন। এর ফলে মিছিল শুরু করতে দেরি হয়ে যায়। ওই মিছিলে ছিলেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম দুই সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু ও রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি দেবজিৎ সরকার, নারী মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে। মিছিলটি চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ ধরে ভিক্টোরিয়া হাউসের দিকে এগোনোর সময় চাঁদনি চকের কাছে ই-মলের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়।

বিজেপির অভিযোগ, এরপরেই তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর পুলিশ জলকামান চালায়। চালানো হয় কাঁদানে গ্যাসও। একইসঙ্গে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর বেপরোয়াভাবে লাঠি চার্জের অভিযোগও তোলে তারা। এই পরিস্থিতিতে যুব মোর্চার মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ সংলগ্ন বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়েন মোর্চার কর্মী-সমর্থকেরা। 

অভিযোগ, পুলিশ সে সময় তাঁদের তাড়া করে লাঠি দিয়ে পেটায়। সে সময়ে রাস্তার উপরেই বসে পড়েন রাজুসহ একাধিক নেতা। তিনি সেখানে বসে অবস্থান বিক্ষোভের কথা ঘোষণা করতেই পুলিশ এসে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সায়ন্তন বসু, দেবজিৎ সরকারসহ অনেককেই।

সায়ন্তন বসুর অভিযোগ, এ ঘটনায় তাঁদের ৫০-৬০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনের মাথাও ফেটেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। 

সায়ন্তন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। আমাদের মিছিলকে ভিক্টোরিয়া হাউসের আধ কিলোমিটার দূরে পুলিশ আটকে দিয়েছে। একটা শান্তিপূর্ণ মিছিলকে কেন এত দূরে আটকাবে, কেনই বা জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে, বুঝলাম না। এ রাজ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য বিন্দুমাত্র জায়গা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ছাড়তে চায় না।

কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) নীলকণ্ঠ সুধীর কুমারসহ সেন্ট্রাল ডিভিশনের বিভিন্ন থানার ওসি এবং অ্যাডিশনাল ওসিরা আজ ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি প্রথমে বলেছিল, ই-মলের সামনে তাদের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করে এসে জমায়েত করবেন। সেখান থেকে ১০ জনের প্রতিনিধি দল যাবে ভিক্টোরিয়া হাউসে। 

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবে ওই কর্মী-সমর্থকেরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে আমরা জলকামান ব্যবহার করি। তারপরেও জমায়েত এগিয়ে আসলে, তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। 

তবে বিজেপি'র দাবি, ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সূত্র : আনন্দবাজার, এএনআই 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা