kalerkantho

জয় শ্রীরাম' না বলায় খুন হওয়া যুবকের মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে! রেহাই পেল অভিযুক্তরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয় শ্রীরাম' না বলায় খুন হওয়া যুবকের মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে! রেহাই পেল অভিযুক্তরা

তাবরেজ আনসারিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা

ভারতে 'জয় শ্রীরাম' না বলায় এক মুসলিম যুবককে টানা ১৮ ঘন্টা ধরে নির্যাতন করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তাকে 'জয় শ্রীরাম' বলতে বাধ্য করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। গত জুনে এই ঘটনা ঘটছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। আজ মঙ্গলবার ওই গণপিটুনির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তাবরেজ আনসারির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে গণপিটুনিতে নয়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো  হয়েছে। 

ওই গণপিটুনির ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, এক মুসলিম যুবককে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয়,২৪ বছর বয়সী ওই মুসলিম যুবকের নাম তাবরেজ আনসারি। ঘটনার অনেক পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত থেকে পরে জেলহাজতে। পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবরেজকে। সেখানেই তিনি মারা যান। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, হাজতে মৃত্যুর পরেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে।

এই মামলার চার্জশিট নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন পুলিশ জানায়, তারা  তাবরেজ আনসারির ওপর হামলার জন্য অভিযুক্ত ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছে। শনিবার আরও এক অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলে দ্বাদশ অভিযুক্ত হিসেবে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ২২ জুন একটি হাসপাতালে মারা যান তাবরেজ আনসারি।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের সারাইকেলা-খারওয়ানে আরও দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করছিলেন এই সন্দেহে তাবরেজ আনসারিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। মারধরের পাশাপাশি ওই যুবককে 'জয় শ্রী রাম' বলতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। গণপিটুনিতে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার চারদিন পরে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঝাড়খণ্ডের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কার্তিক এস বলেছেন, মেডিকেল রিপোর্টে হত্যার পক্ষে কোনো সমর্থনযোগ্য প্রমাণ মেলেনি যার ভিত্তিতে আমরা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করাতে পারি। দুটি পৃথক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একই তথ্যই পাওয়া গেছে। সেটি হলো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন তাবরেজ আনসারি।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমবার যখন এই মেডিকেল রিপোর্ট পাই তখন আমরা উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার মতামত চেয়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়বারও বিশেষজ্ঞরা একই মতামত দিয়েছেন যে, তিনি গ্রেপ্তারের কারণে হওয়া মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা